-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) নাম তার বিউটি আকতার। বগুড়ার জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর গ্রামের বর্গাচাষী বায়েজিদ হোসেন ও রহিমা বেগমের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে বিউটি ছোট। জন্ম থেকে তার দু’টি হাত নেই।

চলতি বছর জাহানারা কামরুজ্জামান ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পা দিয়ে লিখে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে সে। প্রতিবন্ধী হিসেবে তাকে বাড়তি সময় দেওয়া হলেও সে তা নেয়নি। প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনও বাধা নয়। তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিউটি আকতার।

বিউটি আকতার নিয়ে পরিবারের সদস্যদের হতাশ ছিল। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকায় বাবা-মা তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেন। প্রাথমিক সমাপনী, জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষাতে ভালো ফল করেছে সে।

স্থানীয় একটি স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষাতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। উচ্চ শিক্ষার আশায় দুপচাঁচিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। এ বছর তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। দুপচাঁচিয়া জাহানারা কামরুজ্জামান কলেজ কেন্দ্রে তার পরীক্ষা চলছে।

গত ৬ এপ্রিল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, বিউটি আকতার ৯ নম্বর কক্ষে অন্য শিক্ষার্থীদের পাশেই বেঞ্চের ওপর বসে ডান পায়ে আঙুল দিয়ে লিখে ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিচ্ছেন।

কেন্দ্র সচিব ও জাহানারা কামরুজ্জামান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জন্ম থেকে বিউটি আকতারের দু’টি হাত নেই। প্রতিবন্ধী হিসেবে তাকে বাড়তি সময় দিতে চাইলে সে তা গ্রহণ করেননি। সাধারণ শিক্ষার্থীর মতো পরীক্ষা দিচ্ছে। বাংলা প্রথমপত্র ও দ্বিতীয় পত্রের মতো ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষাতে সাবলীল গতিতে উত্তরপত্রে লিখেছে। লেখাও সুন্দর।

মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল হক আকন্দ জানান, বিউটি আকতার খুব মেধাবী ছাত্রী। নিয়মিত ক্লাস করেছে। ক্লাস পরীক্ষার ফলাফল ছিল সন্তোষজনক। তার বিশ্বাস বিউটি এসএসসি ও অন্যান্য পরীক্ষার মত এইচএসসিতেও ভালো ফলাফল করবে।

দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জাকির হোসেন জানান, প্রতিবন্ধী বিউটি নারীদের এগিয়ে যাওয়ার একটি উদাহরণ। সে প্রতিবন্ধী হয়েও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অদম্য ইচ্ছার কারণেই সে লেখাপড়ায় এগিয়ে যাচ্ছে।

বিউটি জানায়, জন্ম থেকে তার দুই হাত নেই। তবে ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল। মা তাকে পা দিয়ে লিখতে শিখিয়েছেন। তার জন্য মা অনেক কষ্ট করেছেন।

সে আরও বলে, পরীক্ষা ভালো হচ্ছে। তাই ভালো ফলাফল আশা করছি।

ভবিষ্যতে কী হতে চায়-এমন প্রশ্নের উত্তরে বিউটি জানায়,শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিতে চায় সে। এজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছে বিউটি আকতার। -ডেস্ক