জয়বায়ুর পরিবর্তন এবং চিনিকল না থাকায় সাতক্ষীরায় আখচাষের উৎপাদন কমেছে আশংকাজনক ভাবে। ছবি:সংগৃহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) জলবায়ু পরিবর্তন এবং চিনিকল না থাকায় দেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরাতে আখ চাষ প্রায় বিলুপ্তির পথে। দুই দশকের ব্যবধানে অর্থকরী ফসলটির উৎপাদন কমেছে ৯৬ শতাংশ।কৃষকরা বলছেন, আখে ছত্রাক, ডগা পচা ও লালচে রোগসহ নানা প্রকার সংক্রামক দেখা দিচ্ছে। যে কারণে তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন আখ চাষ থেকে।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার দাতপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, তার গ্রামের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষক দীর্ঘদিন যাবত আখ চাষ করে আসছেন। নিজেও প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আখ চাষ করেছেন। কিন্তু প্রায় এক যুগ হলো তিনি আর আখ চাষ করছেন না।

কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০০ সালের বন্যা ও পরবর্তী ২০০৭ সালের সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলার প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর থেকে আখের ফলন আর ভালো হচ্ছে না। তাছাড়া আখের বীজ রোপন করে এক বছর অপেক্ষা করতে হয়।

ফসলি জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আখ ক্ষেতে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি ফসলটি চাষ করা বন্ধ করে দিয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুই দশক আগেও এ জেলাতে আখ চাষ হতো ব্যাপক ভাবে। তাদের হিসাব মতে, ১৯৯০ সালে সাতক্ষীরা জেলায় আখ চাষ হয়েছে ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। ২০০০ সালে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৯৪৮ হেক্টর। এর পর ২০১০ সালে এ জেলায় আখের আবাদ হয়েছে মাত্র ১৪০ হেক্টর জমিতে।

এরপর চলতি মৌসুম ২০১৯ সালে আখ চাষ হয়েছে মাত্র ১২৯ হেক্টর জমিতে। গত দুই দশকের ব্যবধানে আখ চাষ এ জেলা থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের অভিমত ২০০০ সালের পর থেকে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আখসহ এ জেলার অন্য ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। কৃষি জমিতে ক্রমান্বয়ে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আখ, হলুদ, ডাল, সূর্যমুখীসহ অন্য মসলাজাত ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, এখানে চিনিকল নেই। সাতক্ষীরা জেলায় আখ উৎপাদন করে গুড় তৈরি ও চিবিয়ে খাওয়ার জন্য বিক্রি করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা রোগের প্রতিকারসহ আখ চাষে কৃষকদের নানা ভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন। -ডেস্ক