(দিনাজপুর২৪.কম) গাজীপুর-৪ আসনটি জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটারসংখ্যা ২ লাখ ৫৮ হাজার ২৬৯ জন। আসনটি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম রূপকার বঙ্গতাজ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের এলাকা। বরাবরই এই আসনে তাজউদ্দীনের পরিবারের সদস্যরা নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তবে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং দলবিহীন ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এবারো এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমির নাম শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়নের দৌড়ে তিনিই এগিয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ১৪ দলের গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ের প্রোভিসি ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার। এ ছাড়া শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের আপন ভাগনে দাতব্য প্রতিষ্ঠান মরিয়ম ফাউন্ডেশনের কর্ণধার আলম আহমেদ প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর পুত্র শাহ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজ, উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক বিএনপি সভাপতি এবং ডায়মন্ড এন্টারপ্রাইজ (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন আহম্মেদ। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কমিউনিস্ট (সিপিবি) পার্টির নেতা মানবেন্দ্র দেব এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে।

সারাদেশের মতো গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনেও নির্বাচনের পালে হাওয়া লেগেছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসতে এখনো বেশ দেরি, তবে এখন থেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। উভয় দলের নবীন-প্রবীণ সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা লবিং শুরু করেছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে গ্রুপিং ও শোডাউন করছেন। নানাভাবে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন।

বর্তমান এমপি সিমিন হোসেন রিমি নিয়মিত সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করছে তার সমর্থকরা। সিমিন হোসেন রিমি বলেন, ‘আমার বিশ^াস দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। জনগণ আবার আমাকে নির্বাচিত করলে মাদকমুক্ত সমাজ ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব।’ অপরদিকে আলম আহমেদ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ মোতাহার হোসেন মোল্লাকে নিয়ে কৃষক লীগ ব্যানারে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা ও সমাজসেবামূলক কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জানা গেছে, কাপাসিয়া আওয়ামী লীগেও কোন্দল রয়েছে। এর সুযোগ নিতে চাইছেন গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার। এলাকায় প্রতি সপ্তাহে এক দিন বিনামূল্যে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রী পার্টি ১৪-দলের একটি শরিক দল। জোটের পক্ষ থেকে শরিক দলকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আমি নির্বাচন করব।’ বিভিন্ন সময় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছেও তিনি প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

অপরদিকে ব্রিগেডিয়ার আ স ম হান্নান শাহর মৃত্যুর পর এ আসনে বিএনপি অনেকটা অভিভাবকবিহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় নবীন-প্রবীণ নেতারা বিভিন্ন হামলা-মামলায় দলীয় কর্মকান্ডে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ২০০৮ সালের পর থেকে কাপাসিয়া সদর এলাকায় বিএনপিকে কোনো মিটিং-মিছিল করতে দেখা যায়নি। মাঝে-মধ্যে ঘাগটিয়া চালাবাজার এলাকায় কিছু কিছু সভা-সমাবেশ করছে। এখানে বিএনপি নেতাকর্মীরা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে রয়েছে। দলীয় কর্মকান্ড নেই বললেই চলে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হান্নান শাহর উত্তরসূরি শাহ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজ এ আসনে একক প্রার্থী বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির এক অংশ। অপর অংশ বলছে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন আহম্মেদ ছাড়া মাঠ চাঙ্গা রাখা যাবে না। অন্যদিকে সোহেল তাজের পদত্যাগের পর গত উপ-নির্বাচনে কমিউনিস্ট (সিপিবি) পার্টির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ বাদল এ আসনে নির্বাচন করেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিউনিস্ট (সিপিবি) পার্টি অংশগ্রহণ করলে কমরেড মানবেন্দ্র দেব প্রার্থী হবেন বলে জানান।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের সহধর্মিণী জোহরা তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলবিহীন ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হয়ে আসেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট আফছার উদ্দীন আহমদ ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচনে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের পুত্র সোহেল তাজ ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহর সঙ্গে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে জামাল উদ্দিন আহম্মেদ মনোনয়নপ্রাপ্ত হন। পরে তা পরিবর্তন করে অর্থনীতিবিদ এম এ আবদুল মজিদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রেও সোহেল তাজ বিজয় অর্জন করেন। পরে সোহেল তাজ প্রথমে মন্ত্রিত্ব থেকে, পরে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলে এ আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সিমিন হোসেন রিমি তার আপন চাচা আফছার উদ্দীন আহমদের (স্বতন্ত্র প্রার্থী) সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমপি হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আনোয়ার হোসেনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে সিমিন হোসেন রিমি আবারো নির্বাচিত হন। -ডেস্ক