(দিনাজপুর২৪.কম) ১৯ মাসের ব্যবধানে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এবার দুই দফায় তা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১লা মার্চ ও ১লা জুলাই দু’দফায় নতুন এ মূল্য কার্যকর করা হবে। গ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত গ্যাসে এক চুলায় সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে। যা বিদ্যমান মূল্যের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। আর দুই চুলায় বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত এক চুলার জন্য ১লা মার্চ থেকে ৭৫০ টাকা ও ১লা জুন থেকে ৯০০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এক চুলার ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। গ্রাহকরা বর্তমানে এক চুলার জন্য দিচ্ছেন ৬০০ টাকা। অন্যদিকে দুই চুলার জন্য গ্যাসের মূল্য ১লা মার্চ থেকে ৮০০ টাকা ও ১লা জুন থেকে ৯৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই চুলায়ও ৩০০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে দুই চুলার জন্য গ্যাসের মাসিক খরচ ৬৫০ টাকা। গতকাল বিইআরসি সম্মেলন কক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম গ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা দেন। কেন দু’দফায় গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে জানতে চাইলে মনোয়ার ইসলাম বলেন, মানুষের পকেটে যাতে একসঙ্গে চাপ না পড়ে এজন্য দু’দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছিল।
নতুন ঘোষিত গ্যাসের গ্রাহক শ্রেণিভিত্তিক মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সিএনজি’র ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য ১লা মার্চ থেকে ৩৮ টাকা ও ১লা জুন থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ শ্রেণিতে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি’র মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ রয়েছে। গ্রাহক শ্রেণির বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য প্রতি ঘনমিটার ১লা মার্চ থেকে ২ দশমিক ৯৯ টাকা ও ১লা জুন থেকে ৩ দশমিক ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেড়েছে ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটারে ২ দশমিক ৩২ টাকা দিচ্ছেন গ্রাহকরা। শিল্পকারখানার ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য ১লা মার্চ থেকে ৮ দশমিক ৯৮ টাকা ও ১লা জুন থেকে ৯ দশমিক ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেড়েছে ১৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটারে ৮ দশমিক ৩৬ টাকা দিচ্ছেন গ্রাহকরা। সারকারখানায় প্রতি ঘনমিটার ১লা মার্চ থেকে ২ দশমিক ৬৪ টাকা ও ১লা জুন থেকে ২ দশমিক ৭১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেড়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। বর্তমানে রয়েছে প্রতি ঘনমিটারে ২ দশমিক ৫৮ টাকা।
শিল্প বয়লারে প্রতি ঘনমিটার ১লা মার্চ থেকে ৭ দশমিক ২৪ টাকা ও ১লা জুন থেকে ৭ দশমিক ৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটারে ৬ দশমিক ৭৪ টাকা দিচ্ছেন গ্রাহকরা। চা বাগানে প্রতি ঘনমিটার ১লা মার্চ থেকে ৬ দশমিক ৯৩ টাকা ও ১লা জুন থেকে ৭ দশমিক ৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেড়েছে ১৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। বর্তমানে রয়েছে প্রতি ঘনমিটারে ৬ দশমিক ৪৫ টাকা। বাণিজ্যিকে প্রতি ঘনমিটার ১লা মার্চ থেকে ১৪ দশমিক ২০ টাকা ও ১লা জুন থেকে ১৭ দশমিক শূন্য ৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেড়েছে ৫০ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটারে ১১ দশমিক ৩৬ টাকা দিচ্ছেন গ্রাহকরা।
নতুন মূল্য পুনর্নির্ধারণের আগে বিইআরসি গত বছরের ৭ থেকে ১৮ই আগস্ট বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আবেদনের প্রেক্ষিতে গণশুনানি করে। গ্যাসের ছয়টি বিতরণ, একটি সঞ্চালন এবং পেট্রোবাংলাসহ অন্য তিনটি উৎপাদনকারী কোম্পানির প্রস্তাবের ওপরও শুনানি করে কমিশন। কোম্পানিগুলো গড়ে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্যহার ৯৪ দশমিক ৯ টাকা বৃদ্ধির জন্য কমিশনে আবেদন করে। কমিশন তাদের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গ্যাসের উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় এবং এবং দেশের আত্মসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় ভোক্তা পর্যায়ে গ্রাহক শ্রেণিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ করে। সূত্র জানায়, গ্যাসের নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে বছরে ৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা রাজস্ব বেশি আসবে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে সুন্দরবন ও পূর্বাঞ্চলের মার্জিন বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি করায় বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বিস্ময় এবং হত্যাশ ব্যক্ত করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর। -ডেস্ক