(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন স্বর্ণ চূড়ায়। স্বর্ণ সময় পার করছেন মাশরাফি, মুশফিক, সাকিব, তামিমরা। সেটা ওয়ানডে ক্রিকেটে। টেস্ট কিংবা টি-২০ ক্রিকেটে নয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে এই যে একের পর এক সাফল্য, তরতরিয়ে এগিয়ে যাওয়া, তাতে এবার ছেদ পড়ছে বেশ লম্বা সময়ে জন্য। ৫-৬ মাসের এই বিরতি কি এগিয়ে ছন্দে প্রভাব ফেলবে? ক্রিকেটাঙ্গনে কিন্তু এখন থেকেই বাজতে শুরু করেছে বিরতির বিষাদের করুণ রাগিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ শেষে পরেরটির জন্য মাশরাফিদের অপেক্ষায় থাকতে হবে জানুয়ারি পর্যন্ত। অথচ গত এক বছরে ২৩টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। ১৯৮৬ সাল থেকে নিয়মিত ওয়ানডে খেলছে বাংলাদেশ। টেস্ট ২০০০ সাল থেকে। বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে। কিন্তু টানা সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি। সত্যি বলতে এমন সুসময় কখনোই আসেনি বাংলাদেশের ক্রিকেটে। সাফল্যের সিঁড়ি ভেঙে তরতরিয়ে উপরে দিকে উঠার রহস্য কি? কেউ বলেন, মাশরাফি বিন মর্তুজার সোনার কাঠির ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। কারও মতে, কোচ চণ্ডিকা হাতুরাসিংহের নিপুণ ছোঁয়ায় সাফল্যের চাবি পেয়ে গেছেন মাশরাফিরা। কোচ, অধিনায়ক-যেই সাফল্যের কারিগর হউন না কেন, এটা সত্যি ওয়ানডে ক্রিকেটে দিনে দিনে পরাক্রমশালী হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। যদিও অনেকেই মনে করেন, দেশের মাটিতে যতটা ভয়ঙ্কর দল বাংলাদেশ, বিদেশে ঠিক বিপরীত। কথাটা সত্যি কি না, ভবিষ্যতই বলবে। ২০১৪ সালের জুনে টাইগারদের দায়িত্ব নেন হাতুরাসিংহে। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই ফেল। দ্বিতীয় সারির ভারতের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। পরের অ্যাসাইনমেন্ট ক্যারিবীয় সফর। সেখানেও ফেল। তখন মনে হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের পথচলা এভাবেই থাকবে অনাধিকাল। দলের এমন ক্রান্তিকালে বিব্রত না হয়ে দুই অধিনায়ক তত্বের অবিশ্বাস্য এক সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মুশফিকুর রহিমকে টেস্ট অধিনায়ক রেখে ওয়ানডে ও টি-২০ দায়িত্ব তুলে দেয় মাশরাফির হাতে। বিসিবির এই কার্যকরী সিদ্ধান্ত খোলনলচে পাল্টে দেয় বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের। মাশরাফির হাত ধরে এরপর থেকে জয়ের পথে হাঁটতে থাকে টাইগাররা। জিম্বাবুয়েকে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে শুরু পথচলা। আফ্রিকান প্রতিনিধিদের হোয়াইটওয়াশের আত্দবিশ্বাস নিয়ে অংশ নেয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে ক্রিকেট মহাযজ্ঞে। বিশ্বকাপ থেকে গগণচুম্বী আত্দবিশ্বাস নিয়ে ফিরে আসেন মাশরাফিরা। যে পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র জয় ছিল ১৬ বছর আগে ১৯৯৯ সালে। সেই পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় সিক্ত করে। এরপর ‘বিস্ময় বালক’ মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথমবারের মতে সিরিজ জিতে নেয় ভারতের বিপক্ষে। দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারানোর পর মাশরাফিদের পারফরম্যান্সে চমকে উঠে ক্রিকেটবিশ্ব। অনেকেই মনে করেন, পাকিস্তান ও ভারতকে হারানো ফ্লুক। কিন্তু এটা যে টিম বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্য, তার প্রমাণ মিলে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে। প্রথম ওয়ানডে হেরেও জিতে নেয় পরের দুটি। তিন তিনটি পরাক্রমশালী ক্রিকেট দলকে হারানোর আত্দবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন বসে আছে সাফল্যের মধ্যগগণে।

সেপ্টেম্বরে ঢাকায় আসছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। সফরে দুটি টেস্ট খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিসিবি চেয়েছিল ওয়ানডে সিরিজ খেলতে। কিন্তু রাজি হয়নি অস্ট্রেলিয়া। তাই টেস্ট খেলেই বছর শেষ হবে বাংলাদেশের। ১৫ জুলাই শেষ ওয়ানডে খেলেন মাশরাফিরা। পরের ওয়ানডে খেলতে অপেক্ষায় থাকতে হবে জানুয়ারি পর্যন্ত। জানুয়ারিতে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলবে জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর ডিসেম্বরে ঘরের মাটিতে খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ওয়ানডে সিরিজ। মাঝে ভারত সফর, টি-২০ বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ খেলবেন মাশরাফিরা। কিন্তু সব টি-২০ ম্যাচ। জুনে ভারত সফরে একটি টেস্ট খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বাংলাদেশের। এই পাঁচ মাস ওয়ানডে না খেলা দীর্ঘ বিরতি দলের ছন্দে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্বাস মাশরাফির, ‘অবশ্যই ছন্দে প্রভাব ফেলবে। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এটা মেনে নিতেই হবে। অনেক সময় টানা ক্রিকেট খেলে ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, আবার লম্বা বিরতি থাকবে। সব কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতেই হবে।’

ছন্দ হারানোর শঙ্কা থাকলেও যাতে কোনো প্রভাব না ফেলে, কোনো সন্দেহ নেই সেদিকে তীক্ষ্ন নজর রাখবে বিসিবি। -ডেস্ক