(দিনাজপুর২৪.কম) দিওয়ালির পর থেকেই ভারতের রাজধানী দিল্লির বাতাস দূষিত হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাশের রাজ্যগুলোর কৃষকদের ফসল পুড়িয়ে ফেলার ধোঁয়া। সব মিলিয়ে দিল্লির অবস্থা এখন ভয়াবহ।

এর মধ্যেই দিল্লির বেশ কিছু জায়গায় আজ রোববার সকাল থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এই বৃষ্টিতে দিল্লির বাতাস দূষণমুক্ত হওয়ার বদলে আরও বিষাক্ত হয়েছে।

এর মাঝেই আজ সন্ধ্যায় অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার প্রথম টি-টোয়ন্টি। আজ ম্যাচের দিন সকাল থেকে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স যা দেখাচ্ছে, তাতে চিন্তার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ আজই দিল্লির বাতাস সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে থাকবে!

দিল্লিতে এ বায়ুদূষণের কারণে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেকার আজকের টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি বাতিল হতে পারে বলে ইন্ডিয়া টাইমস’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ম্যাচ যেহেতু সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু, তাই এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লি, গুরুগ্রাম এবং নয়ডার মানুষজনের অভিযোগ, বৃষ্টিতে লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না। শ্বাস নিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে, সকাল থেকেই চোখ জ্বালা করছে।

আজ সকাল থেকে বৃষ্টি হলেও বাতাসে দূষণের পরিমাণ আরও বেড়েছে। আরও বিষাক্ত হতে শুরু করেছে দিল্লির আকাশ। সকাল থেকেই দিল্লি-এনসিআরে দূষণের সূচক ৪৪৭-এর কাছাকাছি। আজ ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ দিল্লিতে একিউআই’র সূচক ছিল ৪৪৭-এর কাছাকাছি। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে একিউআই ছিল ৪০২-এর কাছে। সেই জায়াগায় বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও আরও দূষিত হয়েছে দিল্লির আকাশ। এমনকি এদিন দুপুর ১টার সময়ে সূচক ৪৬৬-এর কাছাকাছিও চলে যায়।

শনিবারও সকালে দিল্লি ও এর কাছের এলাকার বায়ুর গুণগত মানের একিউআই সূচক ছিল ৪৫০-এর কাছাকাছি। শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায় পুরো দিল্লিতে একিউআই ছিল ৪২৭। অন্যদিকে, জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম এবং ওখলায় ৪৪৩। গাজিয়াবাদে একিউআই দেখা যায় ৪৯৬, গ্রেটার নয়ডা এবং নয়ডা এলাকাতেও প্রায় ৫০০ ছুঁইছুঁই ছিল বায়ুর গুণগত মানের একিউআই সূচক।

আর এই দূষণের জন্যই দিল্লিতে বিমান ওঠানামা করতে যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছে। মোট ৩২টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার ১২টি বিমান। অন্যদিকে গৌতমবুদ্ধনগর এবং নয়ডার স্কুলগুলো বায়ুদূষণের কারণে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দিল্লিতে দূষণের কারণে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লির সর্বত্র নির্মাণ ও বাজি ফাটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এনভায়রনমেন্ট পলিউশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অথরিটি। একই সময় পর্যন্ত স্কুলগুলোও ছুটি ঘোষণা করেছে দিল্লি সরকার। -ডেস্ক