(দিনাজপুর২৪.কম) ভারতের দিল্লী শহরের উত্তরাংশে একটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জনই নারী। ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায়। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি। উল্লেখ্য, উক্ত দুর্ঘটনার সময়ে সেখানে অবস্থানরত একজন নারী ও এক পুরুষ ৩ তলা ওই ভবন থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচান। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল অগ্নিকান্ডের ৫ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ায় তার সমালোচনা করেছে বিরোধীদল।

অগ্নিকান্ডের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উক্ত গুদামের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
যেভাবে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটে ভবনটিতে আগুন লাগে। আগুনের সূত্রপাত ভবনটির প্রথম তলায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, ভবন থেকে বের হওয়ার একটিই পথ ছিল। এবং তা ছিল ভবনের বেসমেন্টের সামনের অংশে। তাই আগুন ভবনের নিচের দিকে লাগার ফলে ভবনে অবস্থানরত কর্মীরা বের হওয়ার গেটের কাছে পৌঁছুতে পারে নি। ভবনের উপরাংশে অবস্থানরত কর্মীদের দু’জন ছাদ থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এতে তারা অগ্নিকান্ডের হাত থেকে রেহাই পেলেও, হয়েছেন মারাÍকভাবে আহত। দু’জনেরই পা ভেঙ্গে গেছে। অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৫টি অগ্নিনির্বাপণ যান অংশ নেয়। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৩ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। এরপরে গভীর রাত পর্যন্ত চলে উদ্ধার তৎপরতা। পুলিশ বলেছে, নিহতদের সবাই হয় অগ্নিদগ্ধ হয়ে কিংবা ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা যান। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরাদের মধ্যে একজন রুপ প্রকাশ। তিনি বলেন, ওই ভবনটিতে চাইনিজ আতশবাজি প্যাকেটজাত করা হতো। তবে সেখানে তা প্রস্তুত করা হতো না। ওই কো¤পানির মালিক মনোজ জেইনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি পুলিশের কাছে বলেছেন, জনৈক লালটিল গয়েলের সঙ্গে তিনি পার্টনারশিপে ওই কো¤পানি পরিচালনা করছিলেন। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা রাজনিশ গুপ্তা বলেছেন, ওই কারখানার মালিকদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদেরকে পর্যাপ্ত আগুন প্রতিরোধের ব্যবস্থা রাখার প্রসঙ্গে অবহেলার দায়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অন্যদিকে দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে যাওয়া বিজেপি নেতা হর্শ বর্ধন এবং বিজয় গয়েল দেরিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসায় মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের সমালোচনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল অগ্নিকান্ডে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্যে ৫ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেবার ঘোষণা দিয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটে লিখেছেন, নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আমি প্রার্থনা করি, আক্রান্ত আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুন।  -ডেস্ক