স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সংসদীয় আসন-৯ দিনাজপুর -৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) এ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপক গণসংযোগ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে অনেক সময় বাকি থাকলেও হাটে, বাজারে, হোটেলে, চায়ের কাপের প্রধান আলোচনা আগামীতে কে পাবেন মনোনয়ন। ভোটারদের মধ্যেও কৌতুহল শুরু হয়েছে।
চিরিরবন্দর নির্বাচন অফিসার সেকেন্দার আলী জানান, উপজেলায় ১২ টি ইউনিয়নে ২ লক্ষ ১০ হাজার ৩১৩ জন ভোটার ও খানসামা নির্বাচন অফিসার রেজাউল ইসলাম জানান, উপজেলায় ৬ টি ইউনিয়নে ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩৬৯ জন ভোটার সর্বমোট এ আসনের ৩ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৮২ জন ভোটার রয়েছে।
শিল্পপতি লুসাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং মেঘনা ব্যাংক ও ফার্মাস ব্যাংকের ডাইরেক্টর আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান সরকার (হাফিজ) বলেন, নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি।
্এই আসনের বিএনপির মনোনয়ন চাচ্ছেন সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান মিয়া ও শিল্পপতি লুসাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং মেঘনা ব্যাংক ও ফার্মাস ব্যাংকের ডাইরেক্টও আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান সরকার হাফিজ। তবে আখতারুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে এক সময় সংস্কারপন্থি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একবার দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
এই আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফ আলী খান জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এলাকায় তার পরিচিতি কম থাকায় তার জনপ্রিয়তা শুন্যের কোঠায়।
ভোটারদের তৃণমূল নেতাদের ও সাধারণ জনগনের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। অনেকেই কেন্দ্রের সবুজ সংকেতের জন্য সিনিয়র নেতাদের দারস্থ হচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, পোস্টার, লিফলেট ও বিলবোর্ড এবং জাতীয় শোক দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলির শুভেচ্ছা ব্যানার দিয়ে জনসাধারণের মাঝে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। এদের মধ্যে এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও শিল্পপতি লুসাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং মেঘনা ব্যাংক ও ফার্মাস ব্যাংকের ডাইরেক্টও আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান সরকার (হাফিজ) পুনরায় মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশা করছেন। তাদের পক্ষে নেতাকর্মীরা নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সাতনালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইছামতি মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান দুলালসহ নেতাকর্মীরা নিজ নিজ উপজেলায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে শিল্পপতি লুসাকা গ্রুপের আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান হাফিজের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। অপরদিকে সাবেক হুইপ ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: মিজানুর রহমান মানু নির্বাচনী আলোচনা রয়েছেন। তিনি নিয়মিত নিজ গ্রুপের কতিপয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চললেও তার তেমন জনপ্রিয়তা নেই। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগ করে নৌকার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে টিভি মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে এই আসনে মাত্র ৪ হাজার ভোট পাওয়ায় তার জনপ্রিয়তায় ধস নামে। সেসময় দলীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তব্য দেয়ার কারণে নেতাকর্মীরা তাকে সহজ ভাবে মেনে নিবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও চিরিরবন্দর আমেনা বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও ঢাকা ল্যাব এইড হাসপাতালের অর্থপেডিক্্র বিশেষজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা: এম আমজাদ হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে তদ্বির শুরুছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। তার বিরুদ্ধে গাছসহ রাস্থা দখল, রাস্তা দখল করে মার্কেট নির্মানসহ বিভিন্ন জমি দখলের অভিযোগ এবং এলাকার রোগীদের অতিরিক্ত ফি নেয়ায় সাধারণ জনগণ তার উপর অনেকটা নাখোশ। এলাকায় তার কোন পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা নেই। অপরদিকে আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন মোল্লাকে প্রার্থী হিসেবে গোপনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আফতাব উদ্দিন মোল্লা জানান, কেন্দ্রীয় জোট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।
শিল্পপতি লুসাকা গ্রুপের আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান ও আওয়ামীলীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দিতা হবে। যে দলের হোক অন্য কোন প্রার্থী মাঠে সুবিধা করতে পারবেনা।