rabeya-alamমুহাম্মদ কামারুজ্জামান (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলহাজ¦ ওয়াহেদুল আলম আর্টিষ্টের মাতা রাবেয়া আলম গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের মুন্সিপাড়াস্থ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারনে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ……. রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি ৬ পুত্র ৩ কন্যা, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ শুক্রবার বাদ জুমা দিনাজপুর জিলা স্কুল মাঠে মরহুমার নামাজে জানাযা শেষে ফরিদপুর গোরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন হবে।
রাবেয়া আলমের মৃত্যু সংবাদ শুনে তার বাসভবনে ছুটে আসেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজু, কোতয়ালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ^জিৎ ঘোষ কাঞ্চন, দৈনিক তিস্তার সম্পাদক মিজানুর রহমান লুলু, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ কুমার, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে চিত্ত ঘোষ, গোলাম নবী দুলাল, উদীচি দিনাজপুর জেলা সংসদের সভাপতি আসাদুল্লাহ সরকার, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মজুমদার ডলার, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহিন হোসেন, হোটেল রেস্তোরা মালিক সমিতি’র সভাপতি শ্যামল কুমার ঘোষ, সাধারন সম্পাদক মাজেদুর রহমান দুলাল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজব প্রমুখ। তারা সকলেই মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এদিকে পবিত্র হজ¦ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থানরত দিনাজপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান নওশাদ মরহুমার পুত্র দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলহাজ¦ ওয়াহেদুল আলম আর্টিষ্টের সাথে মোবাইলে কথা বলে শোক প্রকাশ করেছেন। জিয়াউর রহমান নওশাদ পবিত্র কাবা শরীফে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের জন্য মহান আল্লাহ পাকের দরবারে দোয়া করেছেন।
বিরলের ২ নং ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের বাজনাহার নলদীঘি গ্রামের আলহাজ্ব সুলতান আলমের স্ত্রী রাবেয়া আলম শহরের মুন্সিপাড়াস্থ আলম ভিলায় বসবাস করতেন। তাঁর বড় ছেলে ঢাকায় কর্মরত কাষ্টমস অফিসার মুহাম্মদ রবিউল আলম অসীম কাষ্টমস একসাইজ এন্ড ভ্যাট এক্সিকিউটিভ অফিসার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, মেজো ছেলে সাইফুল আলম আসু ইলেকট্রিক টেকনিশিয়ান, সেজো ছেলে মোঃ ওয়াহেদুল আলম আর্টিষ্ট দৈনিক তিস্তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, ৪র্থ ছেলে এনতাজ আলম জুলাই কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী, অপর ছেলে আরিফুল আলম পল্লব বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ও দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য এবং ছোট ছেলে সাবেক ক্যাঃ এ্যাডজুটেন্ট মোঃ মাহবুব আলম বাংলাদেশ এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব। তাঁর ৩ কন্যা সীমা আহমেদ, নাদিরা আখতার শীলা, সামান্তা জামান সুমী ৩ জনই গৃহিনী। রাবেয়া আলমের বড় ভাই আফতাব উদ্দীন আহমেদ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঢাকা মোহাম্মদপুরে শহীদ হন। অপর ভাই মাহাতাব উদ্দীন আহমেদ দিনাজপুর বাংলা স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তেভাগা আন্দোলনের সময় হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর সাথে সে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁরই পিতা জুন্নুর আলী। মুন্সীপাড়া বাসভবন থেকেই এ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরী করা হয়েছিল। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও তাঁর বড় বোন মরিয়ম বেগমের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন বিষয়ে গোপন বৈঠকসহ আহত মুক্তিযোদ্ধাদের অর্থ জোগাড়ে বিশেষ অবদান ছিল। রাবেয়া আলম স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক সাংসদ মরহুম এ্যাড. এম আব্দুর রহিমের সহকর্মী ছিলেন। দীর্ঘদিন মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত রাজনীতির সাথে অতপ্রতভাবে জড়িত ছিলেন। পরে সাংসারিক কারনে রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেলেও দেশ মাতৃকা তথা সমাজের জন্য তার স্বামী-সন্তানদেরকে নিবেদিতভাবে কাজ করার প্রেরণা যুগিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় ৮০ বছর বয়সেও পুত্র সন্তানদের নিয়ে সামাজিক কর্মকান্ডে নিবিড়ভাবে তদারকি করার স্বীকৃতি স্বরূপ রাবেয়া আলমকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ বাংলাদেশ বিশ^ মা দিবস উপলক্ষ্যে “কৃতি গুণী মা সম্মাননা ২০১৬” পদকে ভূষিত করে। গত ৭ মে’১৬ শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানী ঢাকার পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সারা দেশে বাছাইকৃত ১০ জন গুণী মাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।