মো. নুরুন্নবী বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক সারাদেশে প্যারাসিটামল, রেনেটা, পায়োগ্লিটাজন গ্রুপের ৫১টি ওষুধ উৎপাদন, ক্রয়, বিক্রয়, বিতরণ, মজুদ ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ ঘোষনার ২সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও পার্বতীপুর, বিরল, খানসামা, বোচাগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, বিরামপুর পৌরশহরসহ গ্রামগঞ্জের অধিকাংশ ফার্মেসিতে এ সব ওষুধ বিক্রয় করা হচ্ছে দেদারসে। পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ অনেক ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ বিক্রি এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ সেবন করায় জনগনের স্বাস্থ্যের হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। স্থানীয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসিনতা এবং অধিকাংশ ক্রেতারা এব্যাপারে অবহিত না থাকায় ফার্মেসী মালিকেরা এসব নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ বিক্রয় করছে রোগীদের কাছে। গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ফার্মেসীগুলোতে ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় হাসপাতাল কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা প্রায় সব কয়েকটি ফার্মেসীতেই নিষিদ্ধ ঘোষিত প্যারাসিটামল, রেনেটা, পায়োগ্লিটাজন গ্রুপের ৫১টি ওষুধ দেখা যায়। এছাড়া  বৃহস্পতিবার সকালে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার পাইকারি দোকানে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, এখানকার সর্ববৃহৎ পাইকারী ওষুধ মেডিসিন ব্যবসায়ী বাংলাদেশ মেডিকেল হল, দিপালী মেডিকেল হলসহ কয়েকটি পাইকারী ওষুধের দোকানে প্রচুর পরিমাণ নিষিদ্ধ ঘোষিত এসব ওষুধের মজুত রয়েছে। কয়েকজন ওষুধ ব্যবসায়ের মালিক বলেন, এসব ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আসলে ফেরত দেয়া হবে।
কিন্তু এ বিষয়ে কয়েকজন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এ বিষয়ে কোম্পানি থেকে আমাদেরকে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। দেয়া হলেই কেবল মার্কেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ৫১টি ওষুধ তুলে নেয়া হবে।
অপর দিকে ওষুধ নিয়ন্ত্রন কমিটির ২৪তম সভায় এসব ওষুধের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে দিনাজপুর সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ ইমদাদুল হকের নিকট থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলি দেখার দায়িত্ব ড্রাস সুপারের। তবে ক্লিনিক ও চিকিৎসকরা যেন এ ধরনের ওষুধ বিক্রয় না করে সেই বিষয়ে আমি খেয়াল রাখছি।
অপরদিকে দিনাজপুর জেলা ড্রাগ সুপার রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারের নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ যাতে বিক্রি না হয় সে জন্য আমরা দিনাজপুর শহরে বেশ কিছু ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে প্যারাসিটামল, রেনেটা, পায়োগ্লিটাজন গ্রুপের ওষুধ জব্দ করে ধ্বংস করেছি। কিন্তু উপজেলার ফার্মেসীগুলোতে যেসব দোকানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ এখনও যারা বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ ধ্বংস করা হবে। তবে তিনি বলেন, জনবল সংকট থাকায় উপজেলাগুলোর ফার্মেসীতে অভিযান চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। আমরা যাতে ফার্মেসীগুলো নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি না করে সে ব্যাপারে প্রত্যেকটি উপজেলায় পত্র প্রেরণ করেছি।
অনেক ডাক্তার বলছেন, প্রাণঘাতী এসব ওষুধ ব্যবহারে মানব দেহের মারাত্মক ক্ষতি করবে। তবে এসব ওষুধ যারা অর্থের বিনিময়ে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন তারা ঠিক করছেন না। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া দরকার।