মো. নুরুন্নবী বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) সরকারের নজরদারীর অভাবে ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর রাজবাড়ী ১৭৬ একর জমি ভুয়া দলিল দস্তাবেজ মুলে বেহাত হতে চলেছে। দিনাজপুর মূল শহর হতে ৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রাজবাড়ীতে দীর্ঘ ৬৬ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সরকারীভাবে এর কোন সংস্কার বা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই।  দীর্ঘ ৪শ বছর থেকে গড়ে ওঠা এবং ১১ নৃপতির পর্যাক্রমিক শাসনের দিনাজপুর রাজ এর অবসান ঘটে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তিতে। প্রথম রাজা শুকদেব, সময় কাল ১৬৪০-১৬৭৭ সাল। রাজ পরিবারের শেষ নৃপতি মহারাজা গিরিজা নাথ। সর্বশেষ জমিদার বিলুপ্তি আইন জারীর পর রাজ সম্পত্তি সরকারী নিয়ন্ত্রনে আসে।
জানা যায়, ১৯৫৮ সালে স্বৈরাচারী জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে রাজবাড়ীর যাবতীয় মূল্যবান অস্থাবর সম্পত্তি যেমন রাজ পরিবারের ব্যবহৃত গহনা, মন্দির বিগ্রহের অলংকার, রূপা, তামা ও ভরনের তৈজসপত্র, আসবারপত্র, মোটরযান এবং রূপার তৈরী অস্ত্র শস্ত্র সৌখিন সামগ্রী প্রকাশ্যে নিলাম ডাকে বিক্রির পরেই অরক্ষিত হয়ে পড়ে রাজবাড়ী। এক দিকে রক্ষনাবেক্ষনের অভাব অন্য দিকে রাজবাড়ীর বিভিন্ন মহলে দেওয়াল মেঝের বিদেশী টাইলস, দামী বার্মা সেগুন-শাল কাঠের দরজা-জানালা মায় ছাদের সিলিং এর বর্গা কাঠ লুটে নেবার প্রবনতায় রাজবাড়ীর ধ্বংশ প্রক্রিয়া শুরু হয়। পঞ্চাশের দশকে নতুন রানীমহলে ইপিআর পরে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের অফিস ও শেষে সমাজ সেবা বিভাগের একটি শাখা অফিস খোলা হলেও এরা রাজবাড়ীর স্বার্থ সংরক্ষন সম্পর্কে খোজ খবর রাখার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। অপর দিকে, ষাটের দশকের শেষার্ধে মূল রাজবাড়ীর পূর্ব প্রবেশ পথে অপরিকল্পিত ভাবে সরকারী শিশু সদন নির্মান করা হয়। অধুনা সেখানে একটি ছোট্ট বৃদ্ধাশ্রম স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবীদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে। রাজ দেবোত্তর এস্টেটের এখতিয়ারে শুধু মাত্র রয়েছে কালিয়া কান্তজীউ মন্দির আর দূর্গা মন্দির চত্তর। বাকীটা দৃশ্যত: পেশী শক্তির নিয়ন্ত্রনে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, ৪শ বছরের রাজবাড়ী, যা ছিল এক প্রকার পরিখা বেষ্ঠিত। মূল রাজবাড়ী (রাজভবন) ১৬ একর জমির উপর নির্মিত হয়েছিল। একদা সেখানে ছিল স্ফটিক মন্ডিত দরবারগৃহ, জলসাঘর, তোষাখানা, পাঠাগার, টেনিস গ্রাউন্ডের পাশাপাশি আয়না মহল, রানীমহল, ঠাকুরবাড়ী মহল, ফুলের বাগান ফুলবাগ, হীরাবাগ ইত্যাদি। অতিথি ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ছিল রাজবাড়ীর মূল এলাকায়। রাজবাড়ীর ভেতরে ব্যবহারের জন্য ছিল ৩টি সংরক্ষিত পুকুর। মাছ চাষ এবং প্রজাদের ব্যবহারের জন্য রাজ পরিবার খনন করে পদ্ম দীঘি, হরি সাগর, মাতা সাগর, সুখ সাগর, আনন্দ সাগর ও প্রাণ সাগর। দিনাজপুর রাজ পরিবারের অমর র্কীতি ঐতিহাসিক রামসাগর। যা শহর থেকে ৮ কি: মি: দক্ষিনে আউলিয়াপুর গ্রামের অংশে আয়তন ৪ দশমিক ৩৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে নির্মিত। রাজা প্রাণনাথ-রামনাথের আমলের আরেক র্কীতি পোড়ামাটির ফলক খচিত কান্তজীউ মন্দির।
সরকারী সুত্র মতে, দিনাজপুর রাজবাড়ী সব মিলিয়ে ১৬৬ একর জমির উপর অবস্থিত। রাজবাড়ীর মূল মহল গুলো বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। আছে শুধু ধ্বংসাবশেষ। রাজবাড়ীর অধিকাংশ অংশে বিরাজ করছে ভীতিময় পরিবেশ। যা হানাবাড়ীর সাথেই তুলনা করা যায়।
এদিকে এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের সাথে কথা বললে তিনি  বলেন, রাজবাড়ী রক্ষার জন্য অচীরেই একটি প্রস্তাবনা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে।