(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। অত্যাধুনিক চিকিৎসা  যন্ত্রপাতি থাকা সত্বেও  জনবলের অভাব, অনিয়ম আর দূর্নীতিসহ বিভিন্ন সমস্যায়  জর্জরিত হাসপাতালের কার্যক্রম। ৫’শ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর থেকেই  চিকিৎসক স্বল্পতা,বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি আর দালালদের দৌরাত্বে অতিষ্ট রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজন। ক্লিনিক দালাল ও অসৎ চিকিৎসকদের খপ্পড়ে পড়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অসংখ্য মানুষ।
১২১ কোটি টাকা ব্যয়ে  নির্মিত হয় দিনাজপুর  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতল। ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য হুইপ ইকবালুর রহিমের হস্তক্ষেপে এ হাসপাতালে শুরু হয় চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। ৫’শ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে এখন ১২ টি বিভাগ চালু রয়েছে। কিন্তু শুরু থেকেই জনবলের অভাবে সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচেছ এ অঞ্চলের ৩২ লাখ মানুষ।
প্রায় ৩’শ কোটি টাকা ব্যয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি আধুনিকায়নসহ  অত্যাধূনিক চিকিৎসা সঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক স্বল্পতা,বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি আর দালালদের দৌরাত্বে অতিষ্ট রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজন। হাসপাতালের নার্স সেবা তত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত জুলফা জাহান জানিয়েছেন, ১৭০টি নার্সের পদ শুণ্য রয়েছে এ হাসপাতালে। শুণ্য রয়েছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর অন্যান্য ১৮৯টি পদও। তাদের অতিরিক্ত ডিউটি পালন করতে হয় প্রতিনিয়ত। এতে মাসসিকভাবে তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ অরুন কান্তি হালদার জানিয়েছেন, এ হাসপাতালে ১৬৫টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৯৮টি পদেই শুণ্য রয়েছে।  হাসপাতালের অভ্যন্তরে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য রয়েছে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। টেকনিশিয়ানের অভাবে বন্ধ রয়েছে প্রতিটি ল্যাব এ।সরজমিনে হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, চিকিৎসদের চেম্বারগুলো বেশিরভাগ সময় থাকছে মেডিক্যাল দালাল আর রিপ্রেজেন্টটিভদের দখলে ।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে,সম্প্রতি চিকিৎসা সেবার মেশিন ও যন্ত্রপাতি মেরামতের ৭৫ কোটি ১২ হাজার ৭’শ ৫০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু ওই টাকা আত্মসাৎ হয়ে গেছে।
সূত্রটি মতে, দিনাজপুরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটির আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, এক্স-রে, অ্যানেসথেশিয়ানসহ বিভিন্ন মেশিন ও যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য টেন্ডার ডাকা হয়। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে এই টেন্ডারের জন্য ৭৫ কোটি ১২ হাজার ৭৫০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। তবে এই টেন্ডার কোনো পত্রিকায় না দিয়ে গোপনে পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বে¬য়ার অ্যাভিয়েশনকে কাজ দেয়া হয়।এরপর হাসপাতালের ওই সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির যোগসাজসে কোনো মেরামত কাজ না করে টেন্ডারে বরাদ্দকৃত সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ ইকবালুর রহিমের ঐক্লাতিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালটি আধুনিকায়ন করা  ছাড়াও  হাসপাতালের অনিয়ম ও দূর্নীতি রোধকল্পে শুদ্ধি অভিযান চলছে। তবে জনবলের অভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।