(দিনাজপুর২৪.কম) জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় দিনাজপুর শহরের উপর দিয়ে প্রবাহিত ৫টি খালের মধ্যে একটি খাল পূনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি হলো মহারাজা গিরিজানাথ খাল।  প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দিনাজপুর শহরের মধ্য দিয়ে মোট ৫টি খাল প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো ১নং মহারাজা গিরিজানাথ খাল (৪.০৬ কিলোমিটার), ২নং ঘাঘরা খাল-১ (৩.২৫ কিলোমিটার), ৩নং ঘাঘরা-২ (৭.৮১ কিলোমিটার), ৪নং গৌরীপুর খাল (৪.৬৮ কিলোমিটার) এবং ৫নং থমসন খাল (১.৩১) কিলোমিটার। খালগুলি সচল থাকার সময় দিনাজপুর শহরে জলবদ্ধ ছিল না। পরিবেশের বিপর্যয় ছিল না। ২০১১ সালে দিনাজপুর শহরের জনসংখ্যা ছিল ১লক্ষ ৮৬ হাজারের মতো। বর্তমানে তা বেড়ে ২০১৫ সালে প্রায় পৌনে ৩ লক্ষ। জনসংখ্যা বাড়লেও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পায়নি। বিশেষ করে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভাট, ড্রেন নির্মান, নিস্কাশনের ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়নি। বরং খালগুলো হেজে-মজে যাওয়ায় পানির নিস্কাশনের ব্যবস্থা আরো সংকুচিত হয়েছে। বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত না হওয়ায় প্লাবিত হচ্ছে শহরের নিম্নাঞ্চল। দীর্ঘ দিন ধরে খালগুলি পূণর্বাসন ও পূণঃখনন করা হয়নি। একারণে খালগুলি বছরের বেশির ভাগ সময় শুস্ক থাকে। এসব খালে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে। শহরের জলবদ্ধতা ক্রমে চরম আকার ধারণ করেছে। শহরের নান্দনিক সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে এবং শহরটি ক্রমশই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। খালগুলি ক্রমশ অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে। যে কারণে নানাবিদ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিপন্ন হচ্ছে। মছা-মাছির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। মছা-মাছি বাহিত রোগের পরিমাণও বাড়ছে।
এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ মাননীয় ইকবালুর রহিমের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর উপরোক্ত ৫টি খাল পূণঃখননের মাধ্যমে পূণর্বাসিত করার জন্য ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে পূনর্বাসন প্রকল্প প্রনয়ন করে। প্রকল্পের অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে খাল খনন, ফুটপাট নির্মান, বিদ্যুতায়ন এবং বৃক্ষ রোপন। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কেন্দ্রীয় কার্যালয় কর্তৃপক্ষ প্যাকেজ প্রকল্পটি গ্রহণ না করে পৃথক পৃথকভাবে পূণর্বাসন প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রনয়নের পরামর্শ দেন। সে মোতাবেক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর দিনাজপুর ২০১৪-১৫ সালে মহারাজা গিরিজানাথ খাল পূণর্বাসন প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রেরন করেন। ১৫ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে উক্ত প্রকল্প প্রস্তাবনায় রয়েছে ৪.০৬ কিলোমিটার খাল খনন, সমপরিমাণ ফুটপাট নির্মান, বিদ্যুতায়ন এবং বৃক্ষ রোপন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে জুন ২০১৮তে। প্রকল্প প্রস্তাবনাটি ইতিমধ্যেই একনেকে প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী একনেকের সভায় প্রকল্প প্রস্তাবনাটি অনুমোদিত হয়ে কাজ শুরু হবে।

-মো. নুরুন্নবী বাবু