(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর প্রধান ডাকঘরটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলছে। জেলার ডাকঘর পোস্ট মাস্টার গত ১০সেপ্টেম্বর’১৪ তারিখে যোগদান করেন।তিনি যোগদানের পর দেখতে পান পোস্ট অফিসের বেহাল অবস্থা। বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীলতায় কাজের একটি উদ্ভাবনী শক্তি ও মেধা দিয়ে পরিচালনা করে জনগণ যাতে সেবা পায় তিনি সে পন্থা অবলম্বন করেন। ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করেন যাতে কোন গ্রাহক হয়রানির শিকার না হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর প্রধান ডাকঘরে কর্মরত পোস্টাল অপারেটর পদ রয়েছে ৪১ জন। কিন্তু বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২০ জন। পোস্টম্যানের পদ ১৮টি। তবে এখন রয়েছে মাত্র ৯টি। দীর্ঘদিন ধরে পরিদর্শকের পদ শূণ্য। জুনিয়র হিসাব রক্ষক পদ ‘শূণ্য’ থাকায় ৩জনের কাজ ১ জনকে করতে হচ্ছে। জনবল কম থাকায় অফিসের কাজের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি কোন ছুটি মিলছে না। জনবল না থাকায় তাদেরকে রাতদিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। ডিপার্টমেন্টাল ৮ জনের মধ্যে রাজস্ব খাতে রয়েছে ৩ জন। আর ৫ জন রয়েছে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কাজ করছে। বিভিন্ন অফিসে চিঠিপত্র এত বেশি আগের চেয়ে দ্বিগুণ কাজ করতে হচ্ছে। এছাড়াও সঞ্চয়পত্র কাজের জন্য কোন কম্পিউটার অপারেটর না থাকায় হাতেই কাজ করছেন। পরিতাপের বিষয় হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা ১ জন মহিলা নাম খাদিজা খাতুন। তিনি ২য়তলায় বসেন। তিনি জনসাধারণের পেনশন, বিভিন্ন ধরনের ভাউচার, অফিসের বেতন, বিভিন্ন দপ্তরের হিসাব নিকাশ তাকে একাই সামলাতে হয়। তিনি উপর নিচ যাওয়া আসা-ওঠানামা সব সময় করে থাকেন। তার কারণ তাকে গ্রাহকের সেবা দিতে হয়।  এমন পরিশ্রম করেন দেখে মনে হবে উনি মানুষ নন রোবট ! সমস্যার যেন অন্ত নেই। একদিকে জনবল কম আবার এরই মধ্যে অনেকে এলপিআর-এ চলে যাচ্ছে। পোস্ট মাষ্টার জেনারেল আলামিয়া এ প্রতিনিধিকে জানান, পেনশনের ১ লক্ষ টাকা প্রতি ৩ মাস অন্তর মুনাফা দেওয়া হয় ২৮৯৩ টাকা। চিঠিপত্র আদান-প্রদান ঠিকমত চলছে। প্রতি মাসের উৎস কর বাবদ সরকার রাজস্ব পাচ্ছে ৪০-৫০ লক্ষ টাকা। জনবল থাকলে সরকার আরও রাজস্ব বেশি পেত। আমাদের প্রধান ডাকঘরের আওতায় রয়েছে আরও ৮টি সাব অফিস যা প্রধান শাখা হতে নিয়ন্ত্রিত হয়। শাখাগুলো হল- বাহাদুর বাজার, রাজগঞ্জ, পাউবো, সরকারি কলেজ, বালুবাড়ি, পুলহাট, কালিতলা, রাজবাড়ী, ই,ডি,এস,ও হাউজিং, মেডিকেল ইডিবি এক্সটা ব্রাঞ্চ অফিস। এ সব অফিসের সমস্ত কাজ আমাদেরকে বুঝে নিতে হয়। এছাড়াও প্রধান ডাকঘরে আমাদের নৈশ্য (সান্ধ্যকালীন) পোস্ট অফিস রয়েছে। তিনি যোগদানের পর থেকে দিনাজপুর প্রধান ডাকঘরটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরে পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের সমোপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যতই অসুস্থ্যতা থাক না কেন কোন ছুটি নেই। এমন সময় পরিচয় ঘটে বাংলাদেশ ডাক ও পোস্টম্যান ইউনিয়নের বৃহত্তর দিনাজপুর সাধারণ সম্পাদক মোঃ খতিব উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, এসেছেন ভাই আমাদের প্রতিটি ইউনিট-এ ঘুরে দেখেন। অল্প জনবল নিয়ে মেশিনের মত কাজ করছি আমরা। কোন বিশ্রাম নাই, ছুটি নাই, হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম। এছাড়াও আমাদের কোন টাকা গুনার মেশিন নেই। লক্ষ লক্ষ টাকা হাতে গুনে সরকারকে জমা দিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে পুরাতন জরাজীর্ণ গাড়িটি মেরামত করে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা জীবনের জন্য হুমকি স্বরুপ। প্রধান ডাকঘরের এ সব সমস্যা উর্দ্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহুবার অবগত করেও সুফল হয়নি।
সুধী মহল ও ভুক্তভোগীরা জানান, দিনাজপুর পোস্ট অফিসে অচিরেই শূণ্য পদগুলো পূরণ করা হউক। জনবল বাড়লে গ্রাহকরা যেমন সেবা পাবে তেমনি সরকারও পাবে বাড়তি রাজস্ব। -মোঃ ওয়াহেদুর রহমান