নুর আলম সিদ্দিক (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর পৌরসভার ৬৩ কোটি ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬১ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ২টায় পৌসভার ফাতেহুল আলম দুলাল মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন। বাজেটে সমপরিমান ব্যয় ধরা হয়েছে। মেয়র হিসেবে ক্ষমতা গ্রহনের পর এটি বর্তমান পৌর পরিষদের পঞ্চম বাজেট ও সম্ভবত সর্বশেষ বাজেট।
প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে উন্নয়ন খাতে যার পরিমান ৫০ কোটি ৮ লাখ টাকা। মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এই বাজেটকে একটি উদ্বৃত্ত বাজেট বলে উল্লেখ করেন।
বাজেট বক্তব্যে পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দিনাজপুর একটি সুপ্রাচীন জেলা শহর। এই প্রাচীন পৌরসভার পুঞ্জীভূত সমস্যা সহসাই নিরসন সহজসাধ্য নয়। আমাদের সাধ আছে সাধ্য নেই। পৌরসভার রাজস্ব আয় বাড়েনি, বরঞ্চ বহুলাংশে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পৌরবাসি নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করেনা তাই কাংখিত সেবা পেতে জনগণকে আরো দায়িত্বশীল হওয়া দরকার।
বাজেট বক্তব্যে মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাজেট হচ্ছে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনার বিমূর্ত প্রতিচ্ছবি। আগামী দিনে নাগরিক সুবিধা কি হবে তার প্রতিফলন ঘটবে এই বাজেটে। বিগত সাড়ে চার বছরে পৌরসভার চলমান কর্মকান্ড পরিচালনা পরিষদ যতেষ্ট দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। গতানুগতিক ধ্যান-ধারনা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটিয়ে একটি বাস্তবমুখি, উন্নয়ন ও জনকল্যাণকর বাজেট উপহার দেয়াই আমাদের আজকের এ প্রয়াস।
বাজেট বক্তব্যে মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০১৫-২০১৬ হতে ২০১৯-২০২০ সাল পর্যন্ত পঞ্চমবার্ষিক হোল্ডিং ট্যাক্স পণঃনির্ধারণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পৌরবাসির জ্ঞাতার্থে বহুল প্রচারের জন্য মাইকযোগে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সর্বসাধারণকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি হোল্ডিংয়ের করদাতাগণকে নোটিশ করা হয়েছে। নতুন হোল্ডেং ট্যাক্স ধার্য করা হলেও বাজেটে এর প্রতিফলন ঘটেনি। কারণ নতুন করারোপ বিষয়ে করদাতাগণের কোন আপত্তি থাকলে বিধিগতভাবে ট্যাক্স রিভিও কমিটির মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করা হবে তাই ধার্যকৃত করের দাবী না পাওয়া পর্যন্ত বাজেটে এর প্রতিফলন ঘটবে না।
বাজেট বক্তব্যে পৌর মেয়র বলেন, পৌর এলাকা আলোকিত করতে পর্যাপ্ত পরিমানে এনার্জি বাল্ব, শেড ও সাধারণ বাল্প এর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পৌর এলাকার গুরত্বপূর্ণ মোড় ও সকল আইল্যান্ড শ্রী বৃদ্ধি করা হয়েছে। শহর তথা যত্রতত্র শকর ও কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। ইতোমধ্যে চলতি অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ২শ’টি কুকুর ও শুকর নিধনের ফলে শুকরের অবাধ বিচরন বন্ধ হয়েছে এবং কুকুরের কামরানোসহ উপদ্রব থেকে পৌরবাসি রক্ষা পেয়েছে।
মেয়র তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, উচ্চস্বরে মাইকিং, ট্রাক্টরের বিকট শব্দ, অপরিকল্পিতভাবে আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠা ওয়ার্কশপের আলোর ঝলকানি ও বিরক্তিকর শব্দ নাগরিক জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মেয়র বলেন, বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ) প্রকল্পের মাধ্যমে ১২ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ আগামী অর্থবছরে পৌরসভার রাস্তাÑঘাট মেরামত ও ড্রেন মির্মাণের জন্য ব্যয করা হবে। এছাড়া পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য চলতি অর্থ বছরে ৫ কি.মি. পানির লাইন স্থাপন করা হয়েছে, ৩টি উৎপাদক নলকূপ স্তাপন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো ৬টি উৎপাদক নলকূপ স্থাপন চলমান রয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে শেষ পর্যায়ে পৌর এলাকার জায়গায় অবৈধ দখলীয় প্রবণতা এবং ব্যবসার মালামাল, নির্মাণ সামগ্রী ফুটপাট ও যত্রতত্র ফেলে রাখার কারণে যানবাহন চলাচল, পানি নিষ্কাশন, আবর্জনা অপসারণ ও অন্যান্য পৌরসেবা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। এসব সমস্যা সমাধানে পৌর পরিষদসহ পৌরবাসির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন পৌর মেয়র।
এর আগে মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম গত এক বছরে পৌরসভায় যেসব নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে মৃতদের বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন, রুহের মাগফিরাত কামনা ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
বাজেট অনুষ্ঠানে পৌরসভার প্যানেল মুরাদ আহম্মেদ, কাউন্সিলর মোঃ মকবুল হোসেন, রবিউল ইসলাম রবি, জিয়াউর রহমান নওশাদ, মনিরুল ইসলাম বুলু, মাহমুদা খাতুন জোসনা, মাসতুরা বেগম পুতুল, আবু তৈয়ব আলী দুলাল, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফজলুল হক, সচিব মো. মাহবুবুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী (পানি) মীর তোফাজ্জল হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. লাইছুর রহমান চৌধুরী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. হাবিবুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শহিদুল হক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম, প্রধান সহকারী ও স্টোর কিপার মো. মজিবুর রহমান বাচ্চু, হিসাব রক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ সকল বিভাগের প্রধান, বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।