স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) বিপুল উৎপাহ-উদ্দীপনায় দিনাজপুর ময়দান ঈদগাহ মাঠে এবারে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদ জামাতে ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসিলিম উম্মাহ’র শান্তি ও সৃমদ্ধি কমানায় মুনাজাত করা হয়।  শনিবার (১৬ জুন) সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় গোর-এ-শহীদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের এই সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় আড়াই লাখ লোকের সমাগম হয়েছে বলে দাবী করেছেন মুসল্লীরা। দিনাজপুরসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় জেলা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার লোকজন সর্ববৃহৎ এই ঈদ জামাতে শরিক হন। এছাড়া জেলা শহর ও আশপাশের এলাকার শতাধিক ঈদগাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনাজপুর বড় ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে সকাল থেকে নতুন পাঞ্জাবী-পায়জামা পরিহিত জায়নামাজ নিয়ে ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত হয়। সকাল ৯টা বাজার আগেই বড় ময়দান কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। ঈদগাহ মাঠ ছাড়িয়ে স্টেশন ক্লাব ও আশপাশের রাস্তা পর্যন্ত মুসল্লিদের ভিড় হয়। দিনাজপুরে এই দ্বিতীয় বারের মত এতো বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অপরদিকে সকাল সাড়ে ৮টায় দিনাজপুর ইনস্টিটিউট মাঠে আহলে হাদিস অনুসারীদের ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আহলে হাদিস অনুসারী মুসল্লিরা এই জামাতে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।
দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের প্রধান ও দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতে ইমামতি করেন দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের খতিব মাওঃ শামসুল হক কাসেমী। ঈদের প্রধান এই জামাতে নামাজ আদায় করেন বিচারপ্রতি এম এনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, পুলিশ সুপার মো. হামিদুল আলম, দিনাজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আজিজুল ইমাম চৌধুরী, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দিনাজপুর বড় ময়দানে সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের পূর্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি।
এদিকে দিনাজপুরে ঈদের প্রধান জামাতে যে কোন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য ঈদগাহ মাঠের চার পাশে পুলিশের ৮শ’ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যসহ সাদা পোষাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের পরিকল্পনায় ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এই ঈদগাহ মিনার নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছে। বিশাল এই ঈদগাহ মিনার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ইরাক, কুয়েক, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থাপনার আদলে দিনাজপুর বড় ময়দানে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন এই ঈদগাহ মিনারে রয়েছে ৫২টি গম্বুজ। প্রধান গুম্বুজের সামনে রয়েছে মেহরাব যেখানে ইমাম দাঁড়ান যার উচ্চতা ৪৮ ফুট। এর পাশাপাশি রয়েছে ৫২টি গম্বুজ। এছাড়া ৫১৬ ফুট দৈর্ঘের ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।
এছাড়া দিনাজপুর শহরের প্রায় অর্ধ শতাধিক উন্মুক্ত স্থানে এবং মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে দিনাজপুর শহরের বাইরে ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় চেরাডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় ঈদগাহ মাঠ ও নশিপুর ঈদগাহ মাঠে। এছাড়া চাঁদদগঞ্জ ইদগাহ মাঠসহ প্রতিটি গ্রামের ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে খুৎবার পর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।