এম.এ সালাম (দিনাজপুর২৪.কম) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যে সকল ব্যক্তিবর্গের নিরলস প্রচেষ্টায় এদেশের কৃষিতে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তারই এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব কৃষিবিদ মোঃ মাহমুদুল হাসান। তিনি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির পক্ষ থেকে দিনাজপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কৃষি কর্মকর্তার পদক লাভ করেন। ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী তিনি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে এখানকার কৃষি ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করেন। যার স্বীকৃতি স্বরুপ তার এই পদক লাভ। গত ১৯ ডিসেম্বর দিনাজপুরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ডিএই এর শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা নির্বাচন-২০১৯ উপলক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি কর্তৃক আয়োজিত পুরষ্কার ও সনদপত্র বিতরনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে কৃষিবিদ মোঃ মাহমুদুল হাসানকে এ সম্মাননা প্রদান করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আবদুল মুঈদ। ডিজিটালাইজড লাগসই ও টেকসই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য অর্জনকারী হিসাবে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তার দিক নির্দেশনায় শস্য ভান্ডার খ্যাত বৃহত্তর চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষিতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে এ সকল সাফল্যের মধ্যে তার উল্লেখযোগ্য অবদান গুলো হলো-সুগন্ধি জাতের ধান ব্রিধান-৩৪, ৭০, ৭৫ ও নতুন জাতের ধানের চাষ। আধুনিক পরিবেশ বান্ধব চাষাবাদ কৌশল ও প্রযুক্তি গ্রহনে ধানের ফলন বেশী হওয়ায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতায় ব্যাপক সফলাতা অর্জন করেছেন। চিরিরবন্দর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে কৃষি উন্নয়ন সম্পর্কিত সংবাদ ২৫৮টি বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক স্থানীয় জাতীয় অনলাইন মিডিয়াতে প্রচার ও লিচু বাগান সম্পাসারন লিচু বাগানে মৌ বাক্স স্থাপন। উচ্চ মূল্যের ফসলের চাষ সম্পাসারন ও উপজেলার তেতুঁলিয়া ইউনিয়নে ফিয়াক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ও বিভিন্ন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন।এছাড়া তিন ফসলি জমিকে চার ফসলীতে রুপান্তর করে কৃষি জমির সর্বোত্তম ব্যবহারের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন ও মানব স্বাস্থ্য সংরক্ষনার্থে তার দিক নির্দেশনায় বিষমুক্ত সবজি ও ফল উৎপাদনের লক্ষ্যে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার সফলভাবে সম্প্রসারণ করেছেন।সর্বোপরি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সফলভাবে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সকল উপ-সহকারি কৃষি অফিসারদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা। কৃষকগণ সারাদিন মাঠে কর্মব্যস্ত থাকেন তাই মাঝে মাঝে বড় পর্দায় চিত্ত বিনোদনসহ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন করা। তারই উদ্যোগে চিরিরবন্দর উপজেলায় সকল কৃষি উপ-সহকারীদের ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগের দ্বারা প্রধানমন্ত্রীর “ভিশন ২০২১” সফল বাস্তবায়নের নিমিত্তে সবার সার্বিক সহযোগিতায় দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দরের কৃষি উন্নয়ন অত্যন্ত সফলতার সাথে এগিয়ে চলছে।