এম.এ সালাম (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার ৫০ শর্য্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মানবৃদ্ধির পাশাপাশি উদ্ভাবনী গার্ডেনিং পুষ্টি-পুষ্প ও ভেজষ সেবায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আজমল হক। তিনি জানান, ৪টি মূলনীতির উপর হাসপাতাল উন্নয়নের কাজ করছেন। প্রথমত সার্বক্ষণিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বজায় রাখতে উদ্ভাবনী গার্ডেনিং ব্যবস্থা সমুন্বত রাখা, দ্বিতীয়ত সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সঠিক নেতৃত্ব দান (Integrated management of hospital throw a transparent Leadership and team work), তৃতীয়ত এসডিজি অর্জনের জন্য সিজারকে না এবং নরমাল ডেলিভারী বৃদ্ধি ও মাতৃ এবং শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়ন করা এবং ৪র্থ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে জনমুখী গণমুখী জনসমৃক্ততা এবং নিজস্ব উদ্যোগে রংগের সৌন্দর্য বৃদ্ধির মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা যায়, হাসপাতালে জরুরি সেবার পাশে ইনডোর-আউট ডোর সেবা, প্রসূতি সেবা ও টেলিমেডিসিন সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত রেখেছেন। এছাড়াও এনসিডি, পুষ্টি ও টেলিমেডিসিন নতুন কর্ণার স্থাপনের সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। হাসপাতাল গার্ডেনিং পুষ্টি, পুষ্প ও ভেষজ উদ্ভাবনের পাশাপাশি ইনডোর প্লানটেশনে পুষ্টি বা মিউটেশন ট্রে, প্রসূতি মা ও বাচ্চাদের উপহার সামগ্রী ও প্রসূতি কার্ড প্রদান, হাসপাতাল লাইব্রেরী স্থাপন, হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের খাবার ঘর স্থাপন ও গুণগত কাজের জন্য পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন।

আরো জানা যায়, হাসপাতালে ২৭ বিঘা বা ৯ একর জমির উপর ৫০ শর্য্যার প্রশাসনিক কাঠামো থাকলেও ৩১ শর্য্যার আর্থিক বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। ডাক্তার ৩৪ জন দরকার থাকলেও তিনিসহ ডাঃ মোঃ মর্তুজা আল মামুন, ডাঃ মোঃ মাজেদুর রহমান সহ ৫ জন কর্মরত আছেন। তাদের পাশাপাশি নার্স-এর দরকার ৩১ স্থলে কর্মরত ১৭ জন, ওয়ার্ড বয় ৫ স্থলে একজন, আয়া ৫ স্থলে ১ জন কর্মরত আছেন। জনবল সংকট থাকা সত্বেও টেলিমেডিসিন সেবায় ৫২ সপ্তাহের ২৬ সপ্তাহে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করেন। টেলিমেডিসিন ও ভিডিও কনফারেন্সিং সেবায় সাপোটিং ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে খাদিজাতুল কুবরা সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন। সিজারকে না বলি নরমাল ডেলিভারীকে হ্যা বলি এই প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে প্রতি মাসে ৮/১০টি ডেলিভারী সম্পন্ন করেছেন। তিনি রোগীর কাউন্সিলিং-এ পুষ্টি বিষয়ক কর্ণার ও এএনসি-পিএনসি কর্ণারের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়াও মাতৃ দূগ্ধ পরামর্শ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র এবং মিডওয়াইফ স্টেশন এর ব্যবস্থা করেছেন। ২০১৮ সালে নভেম্বর ৫৩টা এবং ডিসেম্বরে ৪৫টি ডেলিভারী সম্পন্ন করেছেন। এ সালে জরুরী সেবায় ২ হাজার ৯৫৬ জন রোগী দেখেছেন। ২০১৮ সালে উন্নয়ন মেলায় ১ম স্থান অর্জন করেছেন। উপজেলায় প্রায় ২০টি ক্লিনিকে নিজস্ব অর্থায়নে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য রং করে দিয়েছেন।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডাঃ মোঃ আজমল হক-এর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং নিজস্ব অর্থায়নে ইনডোর ও আউটডোর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে পুষ্টি-পুষ্প ও ভেজষ গার্ডেনিং হাসপাতাল উপহার দিয়েছেন চিরিরবন্দর বাসীকে। এ দৃষ্টান্ত হতে পারে দিনাজপুর জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলিতেও।