(দিনাজপুর২৪.কম) নিবিড়  আন্তরিকতা এবং ঐকালান্তিক নিষ্ঠার স্বাক্ষর রেখে পরীক্ষিত একজন নিখাদ সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী  হয়ে উঠা একজন মানুষের নাম মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। একক প্রচেষ্টায় তার ঝুড়িতে জমা করেছেন অনেক সাফল্য। যার একটি হচ্ছে কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ দিনাজপুরের ভবন নির্মাণের জন্য এক কোটি পঁচিশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাইয়ে দেয়া।
সরকারী নাথিপত্রদৃষ্টে জানা গেছে,১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কলেজ পর্যায়ে উন্নীত হয়। ২০০০ শিক্ষাবর্ষে এস এস সি ভোকেশনাল শাখার চারটি ট্রেড চালু করা হয়। এতে করে প্রয়োজনীয় শ্রেণী কক্ষের অভাব প্রকট হতে প্রকটতর হয়ে উঠে। কলেজ শাখার জন্য পৃথক কোন একাডেমিক ভবন না থাকায় নিয়মিত ভাবে ক্লাস পরিচালনা করা কষ্ঠসাধ্য হয়ে দাড়ায়। একাডেমিক ভবন নির্মাণের আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটি ৩০-০১-২০০৫ তারিখে জেলার উন্নয়নেরদায়িত্বপ্রাপ্ত তৎকালীন এমপি এবং প্রধান প্রকৌশলী  শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা বরাবর ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাভূক্ত করার আবেদন করে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের শিক্ষা শাখার মারফতে ১৪-০৯-২০০৬ তারিখে আরো একটি আবেদন প্রধান প্রকৌশলী বরাবর প্রেরণ করা হয়। জেলা শিক্ষা অফিসার দিনাজপুর প্রতিষ্ঠানটিকে স্কুল ও কলেজ সমুহের উন্নয়ন(সরকারী ও বেসরকারী)শীর্ষক প্রকল্পে অন্তর্ভূক্তির জন্য প্রতিষ্ঠান বাছাই ফরম পূরণ করে পাঠান ১৯-০৮-২০০৭ ইং তারিখে।
এরই আলোকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতার্ভূক্তির জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগের দায়ভার কমিটি ন্যস্ত করে তৎকালীন কমিটিরই বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর উপর। কমিটির দরখাস্তে কাজ না হওয়ায় তিনি ২৫-০৯-২০০৭ তারিখে সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর দরখাস্ত দেন। সে দরখাস্ত নিজ অর্থে ঢাকায় গিয়ে উপদেষ্টার একান্ত সচিবের হাতে দেন দরখাস্তের অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা,সচিবমহা পরিচালক মাউশি প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করেন। তাঁর অনুরোধক্রমে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বরাবর ৩০-০৭-২০০৯ ইং তারিখে একটি ব্যক্তিগত পত্র দেন মন্ত্রীর পূর্ব পরিচিত ন্যাপ দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী লুৎফর রহমান চৌধুরী।তিনি তার পত্রে কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাভূক্ত করতে সনিবন্ধ অনুরোধ জানান। ঐ পত্রের সাথে মোহাম্মদ আলী চৌধুরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির আদ্যোপান্ত করে একটি আবেদন ও সংযোগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্টানের কলেজ ভবন নির্মানের জন্য এক কোটি পঁচিশ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন সরকার।
বিদ্যোৎসাহী সদস্য থাকা কালীন  মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর আরডিআরএস ঠাকুরগাঁও জোন হতে বিদ্যালয়টির জন্য একটি টিনশেড ভবনের জন্য আর্থিক বরাদ্দ নিয়ে আসেন। ১৯৯২ সালে তারই একান্ত প্রচেষ্টায় শিক্ষা মন্ত্রনালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভবন নির্মাণের জন্য দুই কিস্তিতে ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। এরকম অনের অবদান রয়েছে তার নিজ উপজেলা ফুলবাড়ীতেও। তাঁর এই কর্মকান্ডের জন্য কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জ্ঞাপনও করা হয়।