মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, (দিনাজপুর ২৪.কম)দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চলের দিনাজপুর ও জয়পুরহাট সীমান্ত দিয়ে কোটি কোটি টাকার মাদক সহ বিভিন্ন পণ্য চোরাপথে আসছে। যৎসামান্য পণ্য বিজিবির হাতে আটক হলেও বড় বড় চালান আটক হচ্ছে না। সীমান্ত এলাকায় টহল রত বিজিবির সদস্যদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারীর গড ফাদারেরা চোরাপথে ভারত থেকে আসা মাদক সহ বিভিন্ন পণ্য যানবাহনে করে নিয়ে যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে পুরো মাস এ এলাকার কাপড়ের দোকান গুলিতে ভারতীয় কাপড়ে ভরে গেছে। ফলে দেশীও কাপড়ে ব্যবসায় ধস নেমেছে। প্রত্যেক দিন আন্তঃনগর ট্রেন গুলিতে চোরাকারবারী ব্যবসায়ীরা মজা করে ব্যবসা করছে। কারণ চলতি মাসে বিরামপুর স্টেশনে চোরাচালানী মাল ধরাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও চোরাকারবারী ব্যবসায়ীদের সাথে সংঘর্ষ হলে বিজিবির গুলিতে ২ জন নিহত হলে বিজিবি তাদের অভিযান কিছুটা গুটিয়ে নেন। তারা ঐ এলাকায় ঠিক মত অভিযান চালাতে ভয় পাচ্ছেন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। গভীর রাতে জয়পুরহাট বিজিবির আওতায় আঠাপাড়া, হাড়িপুকুর, হিলি, কয়া, কড়িয়া, ও ২৯ বিজিবির আওতায় ঘাসুরিয়া, দেশমা, কাঁঠলা সীমান্ত দিয়ে ব্যাপক চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন দিন ও রাতে ঐ সীমান্ত এলাকায় বয়স্ক মহিলা ও পুরুষেরা রাত্রি যাপন করে সীমান্তের ওপার থেকে চোরাপথে আসা কাপড় বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী নিয়ে তারা ভোরে ও সন্ধ্যায় মেঠো পথ ও যানবাহনে করে ঐ সব পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সীমান্তে যেভাবে চোরাচালান হচ্ছে তাতে আটকের পরিমান অনেক কম। এভাবে চলতে থাকলে সীমান্তের ওপার থেকে কোন ভাবে চোরাচালান ব্যবসা বন্ধ হবে না। সীমান্তের ওপারে ব্যবসায়ীরা দূর্গ গড়ে তুলে কোটি কোটি টাকার নিম্ন মানের কাপড় ও অন্যান্য পণ্য এবং মাদক মজুত করে রেখে তারপর তারা এপারের চোরাকারবারীর গড ফাদারদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছেন। শহরতলী ও বিভিন্ন উপজেলার কাপড়ের দোকান, কসমেটিকস্ এর দোকান গুলিতে ভারতীয় পণ্যতে ভরে গেছে। প্রতিবছর বিজিবি আটককৃত মাদক ধ্বংস কল্পে বোঝা যায় যে, এদেশের যুবক, যুবতী, কৃষক, দিনমজুর ও স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের মেধাকে নষ্ট করার জন্য ভারত যত রকম মাদক ব্যবহার করার প্রয়োজন তা তারা করছে। এমনকি বাকীতে ভারতীয় মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাকারবারীদের কাছে বিক্রি করছে। এছাড়া অস্ত্র ব্যবসায়ীরা অতি কৌশলে ভারত থেকে চোরা পথে অল্প টাকায় ক্ষুদ্র অস্ত্র চোরাপথে আনছে। যা সোর্স ছাড়া কোনভাবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা উদ্ধার করতে পারছে না। চলতি বৎসর ২০১৫ সালে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় দিনাজপুরের বাংলা হিলি ও বিরামপুর নবাবগঞ্জ এলাকায় বেশ কয়েকটি বিদেশী ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন বিজিব ও পুলিশ। এতে বোঝা যায় কি ধরনের আরো অস্ত্র চোরাপথে এসেছে। সীমান্তের ওপারে গড়ে উঠেছে ফেন্সিডিল এর কারখানা। তারা নিজেরাই নিম্ন মানের মেডিসিন ব্যবহার করে এই মাদক তৈরি করছে। আসছে ওপার থেকে ব্রান্ডি, হুইস্কি, চুপ্সি, গাঁজা, ভাং, চরস, আফিম, হেরোইন, ইয়াবা, মদ, প্যাথেড্রিন, মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট, সেক্সুয়াল ট্যাবলেট ইত্যাদি। সীমান্তের ওপার থেকে মাদক আসলেও থেমে নেই অন্যান্য পণ্য আসা। যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে সীমান্তের ওপার থেকে চোরাপথে সকল অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করা না হলে যুব সমাজ ধ্বংস হবে। এদিকে খবর নিয়ে জানা যায়, ঘোড়াঘাট, হাকিমপুর, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও ফুলবাড়ী থানা অঘোষিত ভাবে আইন প্রয়োগকরী সংস্থা মাসোহারা চুক্তিতে ডাক দিয়েছেন। যারা ডেকে নিয়েছেন তারা হচ্ছেন, নিজ নিজ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দ। এদের সাথে চোরাকারবারীর ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রয়েছে। এদেরকে বলা হয় পুলিশের লাইন ম্যান। তারা প্রত্যেক দিন থানা গুলিতে ঘোরা ফিরা করেন এবং মোবাইলে যোগাযোগ রাখেন। কোন চোরাকারবারীর লাইন ম্যানের সাথে দর কষা কষি তে ভুল বুঝা বুঝি হলে তারা মোবাইল ফোনে পুলিশকে লেলিয়ে দিয়ে আটক করে দেন। পরে বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে দেনদরবার হয় বলে জানা যায়। অনুরুপ ঘটনা ফুলবাড়ী সহ অন্যান্য থানা গুলিতে রহ রহ ঘটছে। পুলিশ প্রশাসনের সুনাম নষ্ট করার জন্য কতিপয় পুলিশ তাদের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি টহল জোরদার রাখলে চোরাকারবারীরা কোন ভাবে চোরাচালানীর ব্যবসা করতে পারবে না। তাদের মধ্যেও ফাঁক ফোঁকর থাকার কারণে চোরাকারবারীরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে দিনাজপুর ও জয়পুরহাট সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান দমনে বিজিবির উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার।