মো. নুরুন্নবী বাবু (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে হাকিমপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ট্রেনে নাশকতার প্রস্তুতির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ডিবি পুলিশ ৮ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করেছে।
দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আবু সাঈদ সরকার জানান, আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ এসআই ফরিদুল ইসলাম অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে ৮ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করেছে। অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে বিচারকের নিকট উপস্থাপন করা হবে বলে জানা যায়। অভিযোগপত্রে ৮ জন জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে ৫ জনকে গ্রেফতার এবং ৩ জন পলাতক রয়েছে। পুলিশ পলাতক ৩ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী ও ক্রোকী পরোয়ানা জারী করার আবেদন করেছে।
গ্রেফতারকৃত ৫ জনের মধ্যে ১ জন শোলাকিয়ায় ঈদগাহ মাঠে হামলা ঘটনায় আটক ঘোড়াঘাট উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের আব্দুল হাই এর পুত্র জেএমবির এহসার সদস্য শফিকুল ইসলাম ওরফে সোহান গত ৫ জুলাই র‌্যাব সদস্যাদের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। অপর ৪ জন ঘোড়াঘাট উপজেলার দেওগ্রামের হারুনুর রশিদের পুত্র জেএমবির এহসার সদস্য গালিবুর রশিদ ওরফে গালিব (২৩), হাকিমপুর উপজেলার পাউসগাড়া গ্রামের মোঃ গোলাম মোস্তফার পুত্র আবু নাঈম মোঃ ফারুকী আজম (২৫), একই উপজেলার বাগডোড় গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র মোজাহিদুল ওরফে মাফতুস (২২) ও বীরগঞ্জ উপজেলার চকবানারশী গ্রামের আব্দুল আজিজের পুত্র জহিরুল ইসলাম (৩০) দিনাজপুর জেলা কারাগারে আটক রয়েছে। এই ৪ জেএমবি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কৃষ্ণ কমল সরকারের নিকট নিজেদের জেএমবির এহসার সদস্য হিসেবে দাবী করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।
পলাতক ৩ জেএমবি সদস্য হলেন বিরামপুর উপজেলার কসবা সাগরপুর গ্রামের শফির উদ্দীনের পুত্র বাবুল আখতার (৩০), নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রদুমহার গ্রামের হাফিজার রহমানের পুত্র মাসুদ রানা (২৩) ও গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম রাঘবপুর গ্রামের ওসমান গনির পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (২৫)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, গত ২১ জুন হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া রেলওয়ে ষ্টেশনের পাশে ঈদগাহ মাঠে জেএমবি সদস্যরা সমবেত হয়ে ট্রেনে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৩ জেএমবি সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের নিকট থেকে ৬টি ককটেল, ২টি চাপাতি, ১টি ছোড়াসহ জিহাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। জেএমবি সদস্যরা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট স্বীকারোক্তিতে প্রকাশ করেছে হাকিমপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক চৌধুরীকে ওই দিন রাতে তারা হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করেছিল। এরপর তারা ঘোড়াঘাট উপজেলা ভুমি জরিপের দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার শ্যামল চাকমাসহ জেলার ১৮ থেকে ২৪ জন সংখ্যালঘু নেতা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করার জন্য রেকিসহ পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশের হাতে আটক হওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তদন্তকালীন সময়ে গত ৩০ জন জেএমবি সদস্য জহুরুল ইসলাম ও পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের দিন শোলাকিয়ায় জেএমবি সদস্য শফিকুল গ্রেফতার হয়।