mukti jodha-dinajpur24মো. নুরুন্নবী বাবু (দিনাজপুএর২৪.কম) দিনাজপুর সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি ব্যস্ততার কারণে অর্ধেক যাচাই-বাছাই করার পর বিকেল ৫টায় তা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। কবে নাগাদ বাকি মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই শুরু হবে তাও স্পষ্ট হয়। অপরদিকে ১৯১ জন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে ভুয়া ও অমুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে কমিটির সভাপতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনলাইনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ৫০১ জন আবেদন করেছেন। শনিবার কেবলমাত্র দিনাজপুর পৌরসভা এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। কমিটির সভাপতি মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ১ দিনে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব না। পর্যায়ক্রমে যে ক’দিন প্রয়োজন সে ক’দিন অনলাইন আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলবে। যেসকল মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সেগুলো শুনানির মাধ্যমে পরবর্তীতে নিস্পত্তি করা হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। শনিবার দিনাজপুর পৌরসভা এলাকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ইচ্ছুক প্রায় ২ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার আবেদন যাচাই-বাছাই করা হয়।
এদিকে ১৯১ জন তালিকাভুক্ত সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাকে ভুয়া ও অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে। গতবছরের ২৮ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপির নিকট উক্ত তালিকা প্রদান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হয়। মন্ত্রী যাচাই-বাছাই কমিটিকে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানান। তালিকায় ১ জন সাবেক মহিলা এমপি, ২ সাবেক জেলা কমান্ডার এবং বর্তমান জেলা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডারসহ মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
দিনাজপুরে বিপুল সংখ্যক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অস্তিত্ব রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন পর্যবেক্ষক মহল। দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭১ সাল হতে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১০২১ জন মর্মে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তা বেড়ে বর্তমানে ১৫৭২ জন বলে জানা গেছে। মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের একনম্বর ছক হতে জানা যায়, দিনাজপুরে মুক্তিযোদ্ধা নয়, যুদ্ধাহত নয় কিন্তু যুদ্ধাহত ভাতা গ্রহণ করছে এমন কথিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৭৪। এদের মধ্যে মুক্তিবার্তায় নাম আছে ২৪ জনের। কিন্তু কেউই মুক্তিযোদ্ধা নয়, যুদ্ধাহতও নয় অথচ যুদ্ধাহত ভাতা নিয়মিত তুলে আসছে সকলেই।
অন্যদিকে ১৯৭২-৭৫ সালের আগষ্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা জেলা শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সাইফুদ্দিন আখতার বলেন, যুদ্ধকালীন সেই সময়কার মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা জানি ও চিনি। বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কমান্ডারের নেতৃবৃন্দ যাচাই-বাছাই না করে তাদের সুপারিশে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অমুক্তিযোদ্ধাদেরকে মুক্তিযোদ্ধায় রূপান্তর করা হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল আহসান লাল জানান, দিনাজপুরের নির্বাচিত অনেক জনপ্রতিনিধি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়েছে। যা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেয়া উচিত।
সব শেষ খবরে জানা গেছে, বৃহত্তর দিনাজপুর ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড়ের মুক্তিযোদ্ধারা যাচাই-বাছাই স্থগিত করায় তারা মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে গেছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধা এ্যাম্বুলেন্স এ এসেও ফিরে যাওয়ায় তা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আবারও কবে নাগাদ মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই হবে তাও স্পষ্ট নয়।