(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর বিরল উপজেলায় সম্মানী ভাতাপ্রাপ্ত ১০ জন মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা সাময়িক স্থগিত রয়েছে। এদের মধ্যে আইবুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের পরিপত্র মোতাবেক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ সংক্রান্ত উপজেলা কমিটি। বিরল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরন সংক্রান্ত কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ সংক্রান্ত উপজেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল খায়রুমের সভাপতিত্বে গত ০২.০৯.১৫ তারিখে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সম্মানী ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে ৯ জন মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্রে ত্রুটি এবং একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ থাকায় তাঁদের সম্মানী ভাতা সাময়িক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত সমুহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। মন্ত্রনালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এসব মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা সকল সদস্যের সম্মতিক্রমে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
তাঁরা হলেনঃ পলাশবাড়ী গ্রামের মৃত আলহাজ্ব নালু মোহাম্মদের পুত্র আবুল কাশেম, হরিপুর গ্রামের মৃত নবির উদ্দীনের পুত্র মাইন উদ্দীন, পলাশবাড়ী গ্রামের মৃত মহির উদ্দীন আহম্মেদের পুত্র হাফিজ উদ্দীন, মকছেদ আলী, ভগবতীপুর গ্রামের মৃত কাশেম আলীর পুত্র সেকেন্দার আলী, বহলা গ্রামের মৃত নবী মোহাম্মদের পুত্র মফিজ উদ্দীন মিঞা, বৈরাগীপাড়ার মৃত সেন মোহাম্মদের পুত্র জরিফ উদ্দীন, সারাঙ্গাই গ্রামের মৃত আজিম উদ্দীনের পুত্র আশরাফ আলী ও বহলা গ্রামের মৃত খাজা উদ্দীনের পুত্র শহীদ মোঃ মহসিন আলী। এই নয় জন মুক্তিযোদ্ধার শুধুমাত্র সনদ পত্র ছাড়া আর কোন গেজেট নাই। লাল মুক্তিবার্তা/ভারতীয় তালিকায় তাঁদের নাম নাই। অপর মুক্তিযোদ্ধা আইবুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ থাকায় সাময়িক সম্মানী ভাতা স্থগিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ সংক্রান্ত উপজেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল খায়রুমের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তাঁদের সনদপত্র ছাড়া আর কোন গেজেটে নাম না থাকায় সম্মানী ভাতা সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী মুক্তিবার্তা (লাল বই) চুড়ান্ত তালিকা, ভারতীয় তালিকা, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত সনদ, বাংলাদেশ মুক্তিযুযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রিয় কমান্ড কাউন্সিল কর্তৃক ইস্যুকৃত সনদ, মন্ত্রনালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে নাম ঠিকানাসহ সাময়িক সনদের মিল অবশ্যই থাকতে হবে। সম্মানী ভাতাভোগিদের বয়স ২৬.০৩.১৯৭১ তারিখে নুন্যতম ১৩ বছর হতে হবে। মুক্তিবার্তা তালিকা সবুজ বই গ্রহনযোগ্য হবে না বলে পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে। –আতিউর রহমান