(দিনাজপুর২৪.কম) বয়স তাকে আটকাতে পারেনি। একের পর এক উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। তার চাহনীতে রয়েছে তারুন্যের ভাব। অদম্য প্রতিভা ও ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি দিনাজপুরে ব্রীজ নির্মাণ সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোকে কলেজে রূপান্তিত করেই চলেছেন। তিনি একজন সাধা মনের মানুষ।
সমাজসেবী মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। এই পর্যন্ত তিনি দিনাজপুর জেলার অবহেলিত রাস্তাঘাট সহ বহু ব্রীজ নির্মাণে তাঁর অবদানের তুলনা হয় না। দিনাজপুর থেকে ঢাকা-ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাওয়ার পথ দুর্গম ছিল। মোহাম্মদ আলী চৌধুরী তিনি এবং তার বাবা মরহুম নুরুল হুদা চৌধুরী, সাবেক এম.এন.এ সহায়তায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জাফরপুর বৃহৎ ব্রীজ, খয়েরবাড়ি ব্রীজ, ফুলবাড়ি ব্রীজ সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ সরকারের সহায়তায় তা পূর্ণাঙ্গ ব্রীজ তৈরি করে দিয়েছেন। যা দিনাজপুরের ইতিহাসের মাইল ফলকও বটে। তিনি ফুলবাড়ি সরকারি কলেজে ৬টি বিষয়ে অনার্স কোর্স বাস্তবায়ন করেছেন।
দিনাজপুর কলেজিয়েট গালর্স এন্ড কলেজ মুলত তার হাতেই গড়া প্রতিষ্ঠান। তিনি অত্র প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎসাহী পদে থেকে দীর্ঘ ২২ বছর কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজকে কোন প্রকার অর্থ গ্রহণ না করে, নিজ অর্থ ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকল্পে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা পরিষদ সহ বিভিন্ন সংস্থার নিকট থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এনে ১৯৮০ সালের শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে আজ তিনি উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন। যা আজ দিনাজপুর জেলার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাপিঠ।
মোহাম্মদ আলী চৌধুরী তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রধান উপদেষ্টার নিকট নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজ শাখার জন্য প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে দরখাস্ত প্রেরণ করেন। ফলে স্মারক নং-শিক্ষা/এক-০৬/২০০৭/৪৬৯ (৩), ৩১/০৫/২০০৭ খ্রি ঃ তারিখে একটি দরখাস্ত তৎকালীন জেলা প্রশাসক এম, এ, সাইফুল হাসানের মাধ্যমে পরে দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আজাহার আলী ১৯/০৮/০৭ খ্রি তারিখে কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজের জন্য যাচাই বাছাই করেন। সর্বশেষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর অনেক কষ্টের ফল গত ২৫/০৯/০৭ খ্রি তারিখে দরখাস্ত প্রধান উপদেষ্টা বরাবর দাখিল করেন। ফলে দিনাজপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “ কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ বিল্ডিং নির্মাণের আওতাভুক্ত হয়। সেই সাথে কলেজ বিল্ডিং নির্মাণকল্পে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ পায় কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
দিনাজপুরে বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ সংস্কার করে নতুন ব্রীজ নির্মাণ করেছেন এই সাদা মনের মানুষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। যার কারণে দিনাজপুরে তিনি ব্রীজ মাষ্টার উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। পরবর্তীতে ফুলবাড়ি সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স বাস্তবায়ন, জাফরপুর বৃহৎ ব্রীজে এপোর্চ রোড নির্মাণকল্পে সরকারের মাধ্যমে ২৯ শতক জমি অধিগ্রহণ করেন। উক্ত অধিগৃহীত জমির উপর থেকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সহায়ক ভূমিকা পালন, ফুলবাড়ি ময়দা মিল থেকে আমডুঙ্গির হাট, পাঠকপাড়া হাট, চোকারহাট ও কালিরহাট হয়ে বারাইহাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মাণ করণ, অপরদিকে আমডুঙ্গি থেকে শীবনগর হাট রাস্তা নির্মাণের শেষ প্রান্তে। এর সঙ্গে আমডুঙ্গিহাটে গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ, হাট সংলগ্ন যমুনা শাখা নদীতে এলজিইডির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাধ নির্মাণ সমাপ্ত করণ। সংসদ সদস্য বা অন্য কোন পদে অধিষ্ঠিত না থেকেও মোহাম্মদ আলী চৌধুরী এতগুলি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে দিনাজপুরের সর্ব স্তরের জনগণ তাঁকে লৌহ মানব উপাধিকে ভূষিত করে ক্রেস্ট প্রদান করেছেন। এরপরে লৌহ মানব উপাধির সূত্র ধরে দিনাজপুর প্রেসক্লাব সভাপতি স্বরূপ কুমার বাচ্চু এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে সম্মানমা স্বারক ক্রেস্ট প্রদান করেন।
এছাড়াও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে দিয়েছেন তিনি অনেকে তাঁকে সমাজসেবী কিংবা শিক্ষানুরাগী বলে ডাকেন। তিনি বলেন আমার চাওয়ার পাওয়ার কিছুই নেই। যে ক’দিন বাঁচবো মানুষের ভালোবাসায় বাঁচতে চাই। একজন জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। যার ফলে দিনাজপুর ফুলবাড়ি উপজেলার সাধারণ জনগণ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান।