হেব অব নিউজ, এম.এ সালাম (দিনাজপুর২৪.কম)  দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলাধীন থানা সংলগ্ন ভূমি দুস্য এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ও বহিরাগত কিছু দোসর কর্তৃক পত্তনকৃত সম্পত্তিতে ভুয়া দলিল তৈরি করে স্থাপনা নির্মাণসহ সন্ত্রাসী কায়দায় নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। উক্ত সম্পত্তিতে আদালত কর্তৃক ডিক্রী প্রাপ্ত হলেও কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে স্থাপনা তৈরি ও বিক্রি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলাধীন চিরিরবন্দর মৌজার জেএলনং-৬ এস,এ-২৪০ খতিয়ানভূক্ত ৪৪৭০, ৪৪৭১, ৪৪৭২ দাগে ৯৪ শতাংশ সম্পত্তি অভিযোগকারী একরাম খানের দাদা আঃ গণির মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র আব্দুল হাকিম খান ভোগদখলসহ বসবাস করে আসছে। ওই সম্পত্তিতে বসবাস করাকালীন ভূমিদস্যু অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনষ্টেবল জাহাঙ্গীর, কনষ্টেবল মুক্তার ও স্থানীয় আরিফুল ইসলাম আরিফ গং ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে স্থাপনা সহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে বহিরাগত শাকিল ইকবাল, আঃ সামাদ, টিটন, দেলোয়ার হোসেন ও মিজানুর ষড়যন্ত্রের মদদদাতা হিসেবে জড়িত রয়েছেন।
পৈত্রিক সম্পত্তিতে বিবাদ সৃষ্টি হলে অভিযোগকারীর পিতা আঃ হাকিম বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জালাল উদ্দিন, চিরিরবন্দর, জেলা প্রশাসন, অতিঃ জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), তত্ত্বাবধায়ক অর্পিত সম্পত্তি (জমি ও বাড়ি) দিনাজপুরকে বিবাদী শ্রেণিভূক্ত চিরিরবন্দর সহকারী জজ আদালত সরেজমিনে পরিদর্শন অনুযায়ী সাক্ষ্য প্রমাণে দো-তরফা সূত্রে বাদীপক্ষে ডিক্রী দেন। বাদীপক্ষ ডিক্রী প্রাপ্তের ফলে সরকার পক্ষে রায় ও ডিক্রীর অসম্মতিতে ৯৪/৯১ অন্য আপীল মোকদ্দমা জেলা জজ আদালত, দিনাজপুর দায়ের করেন। উক্ত আপীল মোকদ্দমা দোতরফা শুনানী অন্তে ৯/১/৯২ ও ২০/৫/৯২ ইং তারিখে দুইবার আপীল মোকদ্দমা খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আঃ হাকিম খান উক্ত ২৬/৮৮ অন্য স্বত্ত্বের মোকদ্দমার রায় ও ডিক্রী মতে এবং ৯৪/৯১ অন্য আপীল মোকদ্দমা খারিজ মতে এস,এ রেকর্ড সংশোধন ও খারিজ খাজনা কর্তনের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দিনাজপুর আদালতে জমিদারী উচ্ছেদ আইনের ৫৪ ধারায় ১/২৭/৯১-৯২ মিস মোকদ্দমা আনয়ন করে। উক্ত মোকদ্দমা দো-তরফা শুনানী মতে গত ইং ৩০/৯/৯৬ বাদীপক্ষকে রায় ও আদেশ প্রদান করেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে চিরিরবন্দর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস এস,এ রেকর্ড সংশোধন, খারিজ খাজনা কর্তন করার জন্য দরখাস্ত দাখিল করলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনে প্রকাশ পেলে বিবাদীপক্ষ সন্ত্রাসী কায়দায় বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে দেনদরবার শুরু করে। আঃ হামিদ খান স্বপরিবারে বসবাস করারকালীন অসুখে আক্রান্তবস্থায় গত ১২/৭/২০০১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী পাঁচ পুত্র ও দুই কন্যাসহ ওয়ারিশ রেখে যান। যাহা গত ২০/৩/২০১৩, ২৪/৯/১৪, ২২/১২/১৫ ও ২০/৬/১৭ দরখাস্ত দ্বারা অবগত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, অভিযোগকারীর দাদা মৃত আঃ গণি খান বৃটিশ সময়ে পুলিশে চাকুরী করতেন। ১৯৬৫ সালে চিরিরবন্দর থানায় কর্মরত অবস্থায় অবসর গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। দেশ বিভক্তির সময় শ্রীযুক্ত বাবু উমেশ চন্দ্র মুখার্জির পুত্র সুধীর চন্দ্র মুখার্জি ভারতে চলে গেলে উক্ত জমি পাকিস্তান সরকার এসএএনটি এ্যাক্টের ৯২ ধারায় খাস করে দেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকার পরিত্যাক্ত ঘোষণা দিলে আঃ গনি খান চিরিরবন্দর থানায় কর্মরত থাকাবস্থায় পত্তনের জন্য আবেদন করলে ১৯৬২ সালে সেলামীর মাধ্যমে এককালীন পত্তন পান। দেশ স্বাধীনের পরবর্তী সময় হতে বসবাস করে আসছেন। এ ব্যাপারে মৃত আঃ হাকিম খানের পুত্র একরাম খান প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এ যাবৎ অভিযোগের বিষয়টির ব্যাপারে ভূক্তভোগী পরিবারকে কোন রকম তলব বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এতে ভূক্তভোগী পরিবার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বর্তমানে ভূক্তভোগী পরিবার বিবাদীগংদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করে যাচ্ছেন।