-সংগ্রহীত

স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় সদ্য অব্যাহতি পাওয়া দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবু ইবনে রজবকে আরও পাঁচ দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বোচাগঞ্জ উপজেলার ছাত্রদল নেতাকে হত্যার মামলায় তাকে সাতদিন রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে দিনাজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (কাহারোল-বোচাগঞ্জ) মোছাম্মত শারমীন আক্তার তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত সোমবার হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইছাত্রকে হত্যা মামলায় আবু ইবনে রজবকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত।

গত ১১ জুন দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার এলাকায় নিজ মালিকানাধীন হোটেল আফিয়া ইন্টারন্যাশনাল থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রজবের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ছাত্রকে হত্যা ও বোচাগঞ্জে ছাত্রদল নেতাকে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ৬টি মামলা রয়েছে।

গত ১৫ জুন সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের দায়ে তাকে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় সংসদ।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি বোচাগঞ্জ উপজেলার সুকদেবপুর চৌরাস্তামোড় নামক এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর রহমান মনজু। পরে তাকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় নিহতের বাবা ওবায়দুর রহমান ১৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
এছাড়া ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে রাত ৮ টার দিকে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের সংঘর্ষে বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া শহীদ নুর হোসেন হলে ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হত্যার ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দিনাজপুর কোতয়ালী থানা ঘেরাও করেন। এসময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করেন।

পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনায় ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রায় ৭০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।