স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের সঙ্গীত শিক্ষক, ক্যাব ও স্কাউট লিডার নাহিদুল ইসলাম নাহিদের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার এই মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না ! কারণ জানতে সামাজিক যোগাপযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। তার মৃত্যু ফেইজবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নাহিদুল ইসলাম নাহিদ দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী মহল্লার আব্দুর মাবুদ সরকারের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ী দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে। তিনি শহরের কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের সঙ্গীত শিক্ষক, ক্যাব ও স্কাউট লিডার ।
গত সোমবার রাত ৯টায় দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে “ইয়াম্মী চাইনিজ রেস্তোরা”র চত্তরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, সোমবার রাতে কয়েকজন সহপাঠিসহ দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে “ইয়াম্মী চাইনিজ রেস্তোরা”য় পার্টিতে অংশ নেন। এ সময় ফোন কলে কথা বলতে বলতে বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। পরে আর ফিরে আসেননি তিনি। পরে রেস্তোরায় খেতে যাওয়া একজন ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে তাকে পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেয়। উপস্থিত জনতা তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যু কিভাবে হলো তা এখনো রহস্যাবৃত্ত রয়েছে।
তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন দু’টিও খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ মো. রাহিনুল ইসলাম।
এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সঙ্গীত জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাকে এক নজর দেখার জন্য বালুবাড়ীস্থ তার বাসভবনে মানুষের ঢল নামে।
অপরদিকে ফেইজবুকে তার মৃত্যুর কারণ জানতে চেয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন মন্তব্য লিখেছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট আজাহারুল আজাদ জুয়েল লিখেছেন, গানের শিল্পি নাহিদের অকাল মৃত্যু দুঃখজনক ! রহস্যজনক ! এই ঘটনা উদঘাটন করা হোক। হত্যাকান্ড হলে হত্যাকারীদের খুজে বের করা হোক। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পারভেজ আহম্মেদ চৌধুরী পরাগ লিখেছেন, তুই এভাবে চলে যাবি, আসলে মেনে নেয়া যায়না, ওপারে ভাল থাকিস। এরকম অসংখ্য মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে।
তাঁর মৃত্যুর ব্যাপারে তার বড় ভাই ডেন্টাল চিকিৎসক নুরুল ইমলাম জানান, ঠিক কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা আমরা জানতে পারিনি। তার শরীরের কথাও কোন আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি। তবে খাদ্যে বিষক্রীয়ার মাধ্যমে তার মৃত্যু হতে পারে। এছাড়া চাইনিজ পাটিতে যারা ছিল তাদেরকে জ্ঞিাসাবাদ করলেও মৃত্যুর কারণ জানা যেতে পারে।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর কোতয়ালী থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. রেদওয়ানুর রহিম জানান, কি কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি। লাশের ময়না তদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তবে বিষক্রীড়ার বিষয়টি ও কারা কারা চাইনিজে পাটিতে ছিলেন এই দু’টি বিষয় নিয়ে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।