(দিনাজপুর২৪.কম) সকালে ঘাসের ডগা আর বৃক্ষরাজির পাতায় পাতায় জমে থাকা শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ভোর ও সন্ধ্যার আকাশে দেখা যাচ্ছে ঘন কুয়াশা। দিনাজপুরে দিনের বেলায় বইছে হিমেল শীতল হাওয়া সকাল আর সন্ধ্যায় ঝড়ছে কুয়াশার ফুলঝুরি। আশ্বিনের দিন শেষ হতে না হতেই শীতের বুঁড়ি যেন জবর দখল করে নিচ্ছে জেলার প্রকৃতি। রাতের হিমালয়ের হিমেল হাওয়া আর ভোরের ঘন কুয়াশার হাত ছানিই বলে দিচ্ছে শীত আমাদের সন্নিকটে। দিনের বেলা সূর্যের আলোর দেখা মিললেও দিন দিন তাপমাত্রা হ্রাস পাচ্ছে। এতদিন যারা হালকা বা পাতলা কাপড় গায়ে জড়িয়ে বের হতেন তাদের মধ্যে অনেকেই এখন শীতের ভারি কাপড় পরিধান করতে শুরু করেছেন। দিনাজপুর জেলার একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, এ জেলায় শীতের আগমন আগেই ঘটে থাকে। শীতের সময় প্রচন্ড হার কাপানো শীত আর গরমের সময় তীব্র গরম। কার্তিকের শুরুতেই উত্তর দিগন্তে হিমালয়ের বরফচূড়া থেকে ছড়িয়ে পড়ছে শীতবুড়ির হিমশীতল নিঃশ্বাস। পূর্ব আকাশে কুয়াশা ঢাকা মুখ আর অল্প স্বল্প মরা রোদের ঝলকানিই মনে করিয়ে দিচ্ছে শীতের আগমনকে বরণ করে নেওয়ার সময় এসেছে। শীতকে সামনে রেখে অনেকেই যারা পুরনো শীত বস্ত্র তুলে রেখেছেন সেগুলো বের করেছেন। কেউ আবার নতুন করে লেপ, তোষক, যাজিম তৈরি করেছেন। লেপ-তোষকের কারিগরদের ব্যস্ততাই স্বরণ করিয়ে দিচ্ছে শীত আর বেশি দূরে নয়। শীতের এ মাসগুলো যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্ন আয়ের গরীব ছিন্নমূল মানুষগুলোর নিকট অভিশাপ হয়ে দেখা দেয় (কবির ভাষায় বলা হয়, কারো পৌষ মাস-কারো সর্বনাশ)। শীতের সময় বিত্তবানরা তাদের শরীরে বাহারী ডিজাইনের শীতের কাপড় পরে বেড়ায়। অপরদিকে, নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর ভাগ্যে একটি শীতের কাপড়ও জোটে না। তাই নিম্ন শ্রেণীর নারীরা আগে-ভাগেই সাংসারিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে পুরনো শীতের কাঁথাগুলো নতুন করে ছেঁড়া শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে জোড়াতালি লাগিয়ে ব্যবহারের উপযোগী করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। শীতের আগমনে বিত্তবানরা শহরের নাম করা বিপণী বিতান ও কাপড়ের মার্কেটগুলোতে ছুঁটছেন। ফুটপাতগুলোতেও গরম কাপড়ের পশড়া সাজিয়ে বসেছেন ভ্রাম্যমান পুরাতন কাপড় বিক্রেতারা। দিনাজপুর ডিসি অফিসের পশ্চিম দিকে শহরের সর্ববৃহত হকার্স মার্কেটটিতে পুরাতন শীতের কাপড় বিক্রির হিড়িক লেগেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফুটপাতে ও রাস্তার পাশে পুরাতন শীতের কাপড় বেচাকেনা করতে দেখা যায়। এই মার্কেটগুলোতে গরীব মানুষের পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষও কেনাকাটা করতে আসেন।