(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের পার্বতীপুরে শিশু কন্যা মাইমুনা (৬) কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করছে তার মা সাবিয়া আকতার আশা (২৫)। পরে সে নিজে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্লেড দিয়ে কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। শুক্রবার ভোর ৩টায় উপজেলার ১নং বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের হরিরামপুর ভাটিপাড়া গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। পুলিশ ঘাতক মা আশাকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুরের বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের হরিরামপুর ভাটি পাড়া গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে এরশাদ আলীর সঙ্গে মারেয়া এলাকার আব্দুল হামিদের মেয়ে সাদিয়া আক্তার আশা (২২)-এর বিয়ে হয়। ৭ই জুলাই শুক্রবার আনুমানিক ভোর ৩টায় নিজ শয়ন ঘরে ঘাতক মা সাবিয়া আকতার আশা, তার শিশু কন্যা মাইমুনা (৬)কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করছে। পরে সে নিজে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্লেড দিয়ে কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। নিহতের দাদী রেজিয়া বেগম জানান, নফল রোজা থাকবে বলে সেহরি খাওয়ার সময় তাকে ডাকতে গিয়ে দেখতে পাই নিজ ঘরে রক্তাক্ত মেয়ে ও মা ঘুমিয়ে আছে। তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন উঠে দেখে মাইমুনার নিথর দেহ ও মা আশা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। শুক্রবার সকাল ৬টায় মা আশাকে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন বলে নিশ্চিত করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস। ঘাতক আশার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চেক করে জানা যায়, ঢাকায় থাকা আনসার ব্যাটালিয়নে চাকরিজীবী স্বামী এরশাদ আলীর কাছে মোবাইল ম্যাসেজে সে বলেছে, ‘আমি আমার অভিশপ্ত জীবন থেকে তোমাকে মুক্তি দিলাম’। পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তাক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে মডেল থানার পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।  পূর্বে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের কারণে কয়েক দফা স্থানীয় সালিশও হয়েছে। এ  চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।