(দিনাজপুর২৪.কম) ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক শাহেদের প্রতারণায় উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হয়ে এবার দিনাজপুর সুইহারী মাঝাডাঙ্গা দাখিল মাদরাসায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের কথিত মাদরাসা সুপারিনটেনডেন্ট মো. জামিল উদ্দিন নিজে এবং তার পরিবারের নাম দিয়ে টাকাগুলো আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং অনুদানে উঠে এসেছে বহিরাগতদের নাম।
একাধিক শিক্ষক দিনাজপুর সদর উপজেলা থেকে সংগ্রহ করে সরকারি অনুদানের কাগজ দিয়ে এ প্রতিনিধিকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে শিক্ষকদের নামে ৫ হাজার টাকা করে প্রনোদনার টাকা আসে। কিন্তু সেখানে মাদরাসার কোন বৈধ শিক্ষকই টাকা পাননি। টাকা পেলো মো. জামিল উদ্দিন এবং তার পরিবার! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী মৌলভী বলেন, মো. জামিল উদ্দিন, সুলতানা রাজিয়া, আনোয়ারুল্লাহ, মো. জহুরুল ইসলাম, মো. শামসুজ্জামান, মো. মাহের আলী, শাহ আজম সরকার ও মারজুমীন্নাহার সরকারের প্রনোদনার ৫ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। বাকি বৈধ শিক্ষকদের নাম সেখানে দেয়া হয়নি। শুধু তাই নয় সরকারি বরাদ্দকৃত অনুদানের টাকা আনোয়ারুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির নামও রয়েছে। সে বিরলের একটি মাদরাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে।
১২/১১/২০০৪ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা এফ.এস.এস.পি ও ডিজি প্রতিনিধি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সুইহারী মাঝাডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার সভাপতি মো. এনামুল হক, সহসভাপতি- মো. নজরুল ইসলাম, সম্পাদক মো. অফিজ উদ্দিনের এক যৌথ স্বাক্ষরিত উক্ত মাদরাসার শিক্ষক-মৌলভী-কর্মচারীরা হলেন সুপারিনটেনডেন্ট মো. সাইদুর রহমান, সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল মালেক, সহকারী মৌলভী মো. মতিউর রহমান নিজামী, সহকারী মৌলভী মো. ওয়াজেদ আলী, সহকারী মৌলভী তামান্না আক্তার বানু, সহকারী শিক্ষক (সমাজ বিজ্ঞান) মোছা. হাবিবা খাতুন, সহকারী শিক্ষক (সমাজ বিজ্ঞান) নাসরিন আক্তার, সহকারী শিক্ষক (গণিত ও বিজ্ঞান) এম.এ. নূর আলম, সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোছা. তানজিনা, সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) মোছা. ওয়াহিদা খাতুন, এবতেদায়ী প্রধান মো. মোকলেছার রহমান, জুনিয়র শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান, জুনিয়র মৌলভী দিলরুবা খাতুন, ক্বারী অলি মোহাম্মদ, নি¤œমান সহকারী মো. ওবাইদুর রহমান, এমএলএসএস মো. জাহাঙ্গীর আলম, এমএলএসএস মো. এহসান আলী। উক্ত মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০১৫ সাল পর্যন্ত সম্মানের সাথে চাকুরিরত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মাঝাডাঙ্গা নিবাসী স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে বের করে দেয় এবং সে নিজেই সুপারিনটেনডেন্ট বনে যায়।
দিনাজপুর কোতয়ালী থানার জিডি নং-৭৩০, তারিখ : ১৫/০৭/২০২০ তারিখে মালঝাড় (চকচকা), গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন আহাম্মদ এর পুত্র অত্র সুইহারী মাঝাডাঙ্গা দাখিল মাদরাসায় সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. সাইদুর রহমান। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, ১নং বিবাদী মাঝাডাঙ্গা (তেলিপাড়া) মৃত আব্দুর রউফের পুত্র ওবায়দুর রহমান মাদরাসার পূর্বের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছিলেন কিন্তু ২নং বিবাদী মাঝাডাঙ্গা (খালপাড়া) মো. মোকছেদ আলীর পুত্র মো. জামিল উদ্দিন সদস্য ছিলেন না। কিন্তু বর্তমানে মাদরাসায় কোন কমিটি নাই। ফলে মাদরাসা নিয়ে কথা বললেই উক্ত বিবাদীগণ সাইদুরর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। প্রয়োজনে তারা খারাপ পতিতা দিয়ে তাঁকে ফাঁসিয়ে দিবে।
গত ১৭/০৬/২০২০ তারিখে দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর মাদরাসা
.সুপারিনটেন্টডেন্ট সুইহারী মাঝাডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার অনিয়ম তুলে ধরে বলেন, ১৯৮৬ সালে মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে ১২/১১/২০০৪ সালে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে আমি সুপারিনটেন্টডেন্ট হিসেবে এবং অপর ১৬জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পত্র পেয়ে ১৪/১১/২০০৪ সালে চাকুরিতে যোগদান করি। মাদরাসাাটি এমপিওভুক্ত হবে জেনে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি আমাদেরকে কোন কিছু না জাানিয়ে চাকুরি হতে অব্যাহতি না দিয়েই গোপনে নতুন সুপারিনটেন্টডেন্ট ও শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে আমাদের কাছে খাতা সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা সরঞ্জাম কেড়ে নিয়ে মো. জামিল উদ্দীন নিজে সুপারিনটেন্টডেন্ট হয়ে আমাদের শিক্ষকদের বের করে দেন।
কয়েকজন শিক্ষক এবং মো. সাইদুর ইসলাম আবেগতাড়িত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দেশে কোন আইন নেই। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কত কষ্টে দিনাতিপাত করছি। খেয়ে না খেয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি ভালোবেসে ডোনেশন দিয়ে, মেধা দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন করেছিলাম। এই মাদরাসার প্রতিটি ইট আমাদের হাতে গড়া। আমরা পরিবার নিয়ে কিভাবে বাাঁচবো? বলে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন।
এদিকে মাদরাসার এক অভিভাবক মাঝাডাঙ্গা এলাকার শেখ কামাল এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমার ছেলে শীষ মোহাম্মদ ৫ম শ্রেণী থেকে এখন ৮ম শ্রেণীতে পড়ছে আজ অবধি কোন প্রকার সরকারের বরাদ্দকৃত উপবৃত্তি পায়নি। ৬ মাস অন্তর অন্তর এই ৬০০ টাকা যায় কোথায়? শেখ কামালের মত অনেক অভিভাবকই উপবৃত্তির টাকা পান না। তাহলে এই টাকাগুলো মো. জামিল উদ্দিনই আত্মসাৎ করছেন নিয়মিত।
সর্বশেষ সুইহারী মাঝাডাঙ্গা দাখিল মাদরাসায় সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এনটিসিআর নিয়ম না মেনেই নিজেদের খেয়াল-খুশিমত নিয়োগ প্রদান করেছেন। কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও গত ৩০/০৬/২০২০ স্থানীয় দৈনিক জনমত পত্রিকায় সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তথ্য ও প্রযুক্তি এবং সহকারী শিক্ষক বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে অবৈধভাবে টাকা লেনদেন হচ্ছে মর্মে শিক্ষকরা অভিযোগ করেন।
এদিকে সুইহারী মাঝাডাঙ্গা দাখিল মাদরাসা নব্য সুপারিটেন্টডেন্ট মো. জামিল উদ্দীনের মুঠোফোনে কথা বললে তার বিরুদ্ধে অভিযোগুলো অস্বীকার করেন।
পূর্বের শিক্ষকদের বহিস্কার না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল করে নিয়েছে কথিত সুপারিটেন্টডেন্ট মো. জামিল উদ্দীন। শিক্ষকদের চোখের পানি যেন থামছেই না। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অবিলম্বে সুইহারী মাঝাডাঙ্গা দাখিল মাদরাসা উক্ত দখলকারী সুপারিনটেন্টডেন্ট মো. জামিল উদ্দীন গং সহ তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক, নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দিনাজপুর জেলা শিক্ষা অফিসার, ঢাকা মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। -ডেস্ক রিপোর্ট