Exif_JPEG_420
Exif_JPEG_420

মোঃ ওয়াহেদুর রহমান (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর সদরে ভূমিহীন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নের জন্য ৫০ জন পরিবারের পক্ষে মজির উদ্দীন, ময়েজ উদ্দীন ও সহদেব চন্দ্র রায় ৩ জন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট গত ৭ নভেম্বর ১৬ তারিখে বড়গ্রাম মৌজায় সাইতনকুড়ি ৭৭ শতকের জলমহালটি ৩ বছরের জন্য লীজ নেয়। এই লীজ নেয়ার পর ভূমিহীন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের  লোকজন সাইতনকুড়ি পুকুরে মাছ ধরার জন্য গোদাগাড়ী গ্রামে জালিয়াদের ঠিক করে। এই খবর পেয়ে প্রতিপক্ষ মানিক, মাজেদুর, তাজমুল, তারিকুল, জমিল ও আরিফুল গংরা জালিয়াদেরকে হুমকি প্রদর্শন করে বলে সাইতনকুড়ি খাস পুকুরে তোমরা মাছ ধরতে যাবে না। এরপর প্রতিপক্ষ ৪ পরিবার দিনাজপুর এডিএম কোর্টে বাদী হয়ে ১৪৪ ধারা মামলা দায়ের করে। পরদিন থানার পুলিশ সবাইকে নোটিশ করে। এরপর ঐ ৪ পরিবার ঢাকায় গিয়ে উচ্চ আদালত থেকে ৬ মাসের  জন্য স্টে অর্ডার নিয়ে আসে। গত ৭ ফেব্র“য়ারি ১৭ তারিখে তারা দিনাজপুর এডিএম কোর্ট থেকে ১৪৪ ধারার মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়। গত ৯ ফেব্র“য়ারি ১৭ তারিখে ৪ পরিবারের লোকজন সকালে জালিয়াসহ লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে খেজুর গাছের কাটা চলাচলের রাস্তায় দিয়ে পথ বন্ধ করে দেয়। এরপর সাইতনকুড়ি খাস পুকুরে মাছ ধরতে শুরু করে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ খবর পেয়ে জরুরী ভিত্তিতে কোতয়ালী থানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট মুঠোফোনে ঘটনার বিষয় অবগত করে। তৎপর বীর মুক্তিযোদ্ধারা নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে চলাচলের রাস্তা থেকে খেজুর গাছের কাটাগুলো সরিয়ে সাইতনকুড়ি পুকুরে এসে ৪ পরিবারকে মাছ ধরতে বাঁধা প্রদান করে। এতে ৪ পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হুকুমে লাঠিয়াল বাহিনীরা ভূমিহীন, অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং একাধারে লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করতে থাকে। শুধু তাই নয়, ৪ পরিবারের লোকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নারী-পুরুষদেরকে টেনে হেঁচড়ে পুকুরে নামিয়ে পানিতে চুবিয়ে হেনস্থা করে। এ সময় ৪ পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন পথে কয়েক বস্তা মাছ মটর সাইকেল যোগে নিয়ে যায়। ঘটনা চলাকালীন সময়ে থানা পুলিশ এসে ৬ ভ্যানের মধ্যে ২ ভ্যান মাছ উদ্ধার করে। এরপর পুলিশ অত্র ৭নং ওয়ার্ড ইউ’পি সদস্য মকবুল চৌধুরীসহ উভয়পক্ষকে নিয়ে ১০নং কমলপুর ইউনিয়ন পরিষদে যায়। সেখানে উভয়পক্ষের সাথে আলোচনা করে আড়তে মাছগুলো দিয়ে ৩১ হাজার টাকা ইউ’পি সদস্য মকবুল চৌধুরীর কাছে জমা রাখে। এই ঘটনায় ৪ পরিবারের লাঠিয়াল বাহিনীর প্রহারে বীর মুক্তিযোদ্ধা মজির উদ্দীন (৬৫) ও তার স্ত্রী সালেনুর বেগম (৫৫), মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দীনের স্ত্রী ওহেদা বেওয়া (৫৮) ও তার পুত্র ওবায়দুর রহমান (৩৮) মিলে ৪ জন আহত হয়ে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। লাঠিয়ালদের প্রহারে মকবুল হোসেন (৩১), দুলাল (২৪), শফিউদ্দীন (৪৮), ফরিদুল (২৮), মমিনুল (৩৫), রবিউল (২৬) ও মফিজুল (২৬) সহ অনেকে আহত হয়ে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। মাথায় রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মজির উদ্দীন জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, লাঠিয়াল বাহিনী আমার মাথা ও মুখমণ্ডলে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করেছে। তাদের আঘাতে আমার ১টি দাঁত ভেঙ্গেছে ও ২টি দাঁত নড়ে গেছে এবং মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হওয়াকালীন তারা জোরপূর্বক আমাকে টেনে হেচড়ে পুকুরে নামিয়ে পানিতে চুবিয়েছে। এ সময় আমার পুত্র মকবুল এগিয়ে এলে তাকেও তারা প্রহার করে টেনে হেচড়ে পানিতে ফেলে দেয়।  তিনি বলেন, বড়গ্রাম মৌজার ৭৭ শতকের সাইতনকুড়ি সরকারি খাস জলমহালটি আমরা ২৩ পরিবার পূর্বপুরুষ থেকে ভোগ দখল করে আসছি। গত ২০১০ সালে আমাদের ২৩ পরিবারের মধ্যে ৪ পরিবার  সাইতনকুড়ি খাস পুকুর নিজেদের নামে করার জন্য দিনাজপুর এডিএম কোর্টে ইনজাংশন জারীর মামলা করে সুকৌশলে তাদের পক্ষে রায় নেয়। পরে সরকারী পিপি আদালতে ঐ বিষয়ে মামলা দায়ের করে। ফলে গত ১১/৮/১৬ তারিখে সাইতনকুড়ি খাস পুকুরটি সরকারের পক্ষে রায় হয়। সরকারের পক্ষে রায় হওয়ার পর ভূমিহীন, অস্বচছল বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের উন্নয়নের জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছ থেকে ৭৭ শতক সাইতনকুড়ি সরকারি খাস পুকুরটি আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ লীজ গ্রহণ করি। আরও বলেন, ৪ পরিবারের সদস্যরা লীজ নেয়া পুকুরে আমাদেরকে যেতে দিচ্ছে না। আমরা অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রহারে আহত হচ্ছি। তারা আমাদেরকে মাছ ধরার জন্য পুকুরে যেতে দিচ্ছে না। এমনকি তাদের লাঠিয়াল বাহিনীর ভয়ে আমরা জীবনের চরম নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।