(দিনাজপুর২৪.কম) লিচুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর। দিনদিন লিচু চাষ বাড়ছে। প্রতি বছরই ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে লিচু চাষের জমির পরিমাণ। এখন সারা দেশে কম বেশি লিচু চাষ হলেও দিনাজপুরের লিচুর কদর আলাদা। রসালো ফল লিচু অনেকের কাছে ‘রসগোল্লা’ হিসেবে পরিচিত। এবার মধুমাসের ফল লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জেলার  প্রতিটি লিচু গাছে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় মুকুল। লিচু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার লিচু দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। লিচুর ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই উপজেলাতে লিচু চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবারও চিরিরবন্দরে রেকর্ড পরিমাণ লিচুর ফলন হবে বলে তাদের আশা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মাহামুদুল হাসান জানান, চলতি বছরে উপজেলায় ৫’শ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিরিরবন্দর তথা দিনাজপুরের লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দেশব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে। ইতোমধ্যে লিচু গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার ফলন ভালো হবে। চিরিরবন্দরের লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই ও মাদ্রাজি, কাঠালী উল্লেখয্যেগ্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারনে এবার এসব প্রজাতির লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চিরিরবন্দরের প্রতিটি বাড়ির বসতভিটায় বা আঙ্গিনায় লিচু গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। মুকুলের সঙ্গে ফুলেফুলে মৌমাছির গুঞ্জন আর ঝিঁঝিঁ পোকার ঝিঁ ঝিঁ শব্দে এলাকা মুখরিত হতে শুরু করেছে। লিচু বাগানগুলোতে ফুল আসা থেকে লিচু নামানো পর্যন্ত ৩-৪ মাস লিচু বাগানের সঙ্গে সমপৃক্তদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফুল আসার ১৫ দিন আগে এবং ফুল আসার ১৫ দিন পরে সেচ দিতে হয়। সেই অনুযায়ী গাছে মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গেই মুকুলকে টিকিয়ে রাখতে লিচু চাষি ও ব্যবসায়ীরা স্প্রে করে চলছেন। এছাড়াও মুকুল যাতে ঝড়ে না পড়ে সেজন্য গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি ও সার দেয়া হচ্ছে। লিচু চাষি আতিউর রহমান জানান, লিচুর ফুল আসা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই পরিচর্যা শুরু করে দিতে হয়। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেয়া শুরু হয়েছে। লিচু গাছগুলোতে ফুল আসতেই রাজশাহী, রংপুর, চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার লিচু ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। তারা আগাম লিচু বাগান ক্রয় করছেন। চিরিরবন্দর কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কোন সময়ে কোন কীটনাশক, বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত।