স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে বিভিন্ন পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। দ্রব্যমূল্যের দাম এমন লাগামহীন মধ্যবৃত্তরা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। দাম বৃদ্ধির ধারা গত দু’মাস ধরে অব্যাহত থাকলেও বেশি বেড়েছে গত দুই সপ্তাহে। দাম বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, বিভিন্ন প্রকারের ডাল, গরু, মুরগি,খাসির গোশত এবং বিভিন্ন প্রকারের মসলা। নিত্যপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য পাইকাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের এবং খুচরা বিক্রেতারা পাইকারদের দায়ী করলেও মূলত বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের মজুতদারি বৃদ্ধির কারণেই বেশির ভাগ পণ্যের দাম বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল বাজার ঘুরে জানা গেল, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২২ থেকে ২৮ টাকা। এক মাস আগে একই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। ক্রেতাদের দাবি, রমজান মাস এলেই এসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজির মাধ্যমে এ কাজটি করেন।
ক্যালেন্ডারের হিসেব অনুযায়ী, রমজান আসতে এখনো দেড় মাস বাকি। সেহরি ও ইফতারির জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা এ মাসে বেশ বেড়ে যায়। স্বাভাবিক কারণে দামও বাড়ে। কিন্তু দেড় মাস আগেই দাম বাড়ার কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে রমজানের আগে ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন, রমজানে পণ্যমূল্য বাড়বে না। সরকারও এটিকে বেশ ফলাও করে প্রচার করে। কিন্তু রমজান শুরুর আগেই এসব পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যায়। ফলে ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি ভোক্তাদের কোনো কাজে আসে না। এবারো তাই হয়েছে বলে জানান তারা।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ জানাতে গিয়ে বাহাদুর বাজারের ছাব্বির পাইকারি দোকানদার বলেন, গত কয়েক দিনে পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। মূলত, খুচরা বিক্রেতারা রমজারের জন্য পণ্য মজুদ করতে গিয়েই এমন কেনাকাটা করছেন। তারা এখন ধারদেনা করে সাধ্যমতো পণ্য মজুদ করছেন রমজানে বাড়তি দামে বিক্রির আশায়। অনেকে আবার চড়া সুদে টাকা নিয়ে পণ্য মজুদ করছেন। রমজান উপলক্ষে কিছু মানুষের অতিরিক্ত ভোগ করার মানসিকতা তৈরি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কারণেই মজুদদাররা বাড়তি মুনাফা লোটার সুযোগ পায়।
গতকাল কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য ছোলার দাম এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। এক মাস আগে মান ভেদে প্রতি কেজি ছোলা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গতকাল দিনাজপুরের বিভিন্ন বাজারে ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। যদিও কোনো কোনো বাজারে ৮৫ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, দেশে ছোলার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আরো কয়েকদিন গেলে বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে। রমজান উপলক্ষে সব ব্যবসায়ী উন্নতমানের পণ্য আমদানি করে। এ কারণে দাম একটু বেড়েছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা। বাজারে গতকাল বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয় ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। সে হিসাবে বয়লার মুরগির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। বয়লার মুরগির পাশাপাশি দাম বেড়েছে লাল লেয়ার মুরগি ও পাকিস্তানি কক মুরগির। এছাড়াও গরুর গোস্ত গেল সপ্তাহে দাম ছিল কেজি প্রতি ৪৪০ টাকা কিন্তু এখন দাম বেড়ে ৫০০ থেকে ৫৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খাসির গোস্তর দাম ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ দিকে কোনো সুখবর নেই সবজির বাজারে। ছোট এবং চিকন ১ আটি শাকের মূল্য সর্বনি¤œ ১৫- থেকে ২৫ টাকা। ঢেঁরস ৭০ টাকা,পটল ৬০-৮০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, শশা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, খিরা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লেবু ২০ থেকে ২৫টাকা হালি। আর মাছের বাজার আরও চড়া। দাম বাড়ার কারণে মধ্যবিত্তরা মাছের বাজারে যেতেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ছোট্ট মলা মাছের মূল্য ২৫০ গ্রাম ২৫০ থেকে ৩৫০টাকা।
এদিকে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে গেলেও স্থানীয় সরকারের এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। আগামী পবিত্র রমজান মাসে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন ভোক্তারা।