এম.এ সালাম, হেড অব নিউজ (দিনাজপুর২৪.কম)  দিনাজপুর জেলায় ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে লতিরাজ কচু চাষে। লাভজনক হওয়ায় জেলার প্রতিটি উপজেলায় লতিরাজ কচুর চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলায় চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি মাসে এক বিঘা জমিতে লতিরাজ জাতের কচু চাষ করেন কৃষক বিপ¬ব রায় (৩২)। তিন মাসের মাথায় কচুগাছের গোড়া থেকে বের হতে শুরু করে কচুর লতি। পরের মাসে আসে হলুদ ফুল। স্থানীয় ভাষায় এই ফুল ‘পেন্নেত’ হিসেবে পরিচিত। বিপ¬ব রায় সেই কচুর লতি বিক্রি করছেন ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। আর ফুল বিক্রি করেছেন ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। বিক্রির অপেক্ষায় আছে মাটির নিচে থাকা সোলা কচু। কৃষক বিপ¬বের বাড়ি চিরিরবন্দর উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের কৃষকপুর গ্রামে। একসময় নিজের দুই বিঘা আর এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমনের মৌসুমে ধানের চাষ করতেন বিপ¬ব। গত জানুয়ারি মাসে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে লতিরাজ জাতের কচু লাগিয়েছেন এক বিঘা জমিতে। বর্তমান লতি আর কচুর ফুল বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন বিপ¬ব। সম্প্রতি সরজমিনে দেখা যায়, খেত থেকে কচুর লতি ছিঁড়ছেন বিপ¬ব। কথা প্রসঙ্গে বিপ¬ব জানান, গত দুই বছর টমেটো আর মরিচে লাভ হয়নি তাঁর। এমন সময় কৃষি অফিসারের পরামর্শে কচু চাষে আগ্রহ দেখান তিনি। কৃষি অফিস থেকে এনএটিপি-২ প্রকল্পের অর্থায়নে কচুর চারাও দেওয়া হয় তাঁকে। তিন মাসের মাথায় লতি বিক্রি শুরু হয়। ইতিমধ্যে ৭০ দিনের বেশি লতি ছিঁড়েছেন। প্রতিবার এক মনের বেশি লতি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে এই লতি বিক্রি করে মোট ৭০ হাজার টাকা আয় করেছেন। আর কচুর (পেন্নেত) বিক্রি করেছেন ১০ হাজার টাকার। মাটির নিচে থাকা প্রতিটি সোলা কচুর দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা করে পাবেন বলে আশা করছেন তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) প্রকল্প’র আওতায় উচ্চ মূল্যের ফসল হিসেবে লতিরাজ কচু চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলায় ছয়টি প্রদর্শনীর মাধ্যমে তিন একর জমিতে লতিরাজের আবাদ হচ্ছে।