(দিনাজপুর২৪.কম) ২৪ এপ্রিল রোববার বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) দিনাজপুর ইউনিট আয়োজিত কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিসেস (সিএলএস) প্রকল্প রানা প্লাজা ভয়াবহ দূর্ঘটনার ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিনাজপুর ইকবাল হাই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা মৃত শ্রমিকদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন শেষে স্কুল সম্মুখে পাকা রাস্তায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে।
মানববন্ধন কর্মসূচীর উদ্বোধন করতে গিয়ে ব্লাস্ট দিনাজপুর ইউনিটের সমন্বয়কারী এ্যাডঃ সিরাজুম মুনিরা বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইনে যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণের অর্থ নির্দিষ্ট করা আছে তা বর্তমান সময়েল প্রেক্ষাপটে ও বাস্তবতার নিরিখে যথাযথ নয়। রানা প্লাজায় দূর্ঘটনায় ৩ বছর হলে গেলেও নিহত ও আহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ প্রদানে দূন্যতম মানদন্ড নির্ধারন করা সম্ভব হয় নি। ব্লাস্ট শ্রমিকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ইকবাল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেলিনা সুলতানা, ব্লাস্ট উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম, সহযোগী সংগঠন সিডিসি’র নির্বাহী পরিচালক যাদব চন্দ্র রায়, উদ্যোগ সংস্থার নেজাবত হোসেন, আব্দুল মতিন। এসময় ব্লাস্টের জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা এ্যাডঃ খুরশিদা পারভীন জলি, এ্যাডভোকেসী অফিসার এ্যাডঃ হরুন-অর-রশিদ, স্টাফ ল’ইয়ার এ্যাডঃ পিনাক পানি রায় ও পেরা লিগ্যাল (সিএলএস) ফারজানা ফারহিন ইতু। সিডিসি রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক উপকারভোগী মোঃ সাদ্দাম হোসেন ও মোফাজ্জল হোসেন রানা প্লাজায় কর্মরত থাকা অবস্থায় দূর্ঘটনার ঘটনা বর্ণনা করেন। উল্লেখ্য  বিগত ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল তারিখ সাভারে অবস্থিত রানা প্লাজা ভবন ধ্বংসের দূর্ঘটনায় প্রায় ১১৩৫ জন মানুষ নিহত হয় এবং অনেক মানুষ গুরুত্বর আহত হয়। বেশিরভাগ নিহত ও আহত মানুষ ছিল রানা প্লাজার গার্মেন্টস শ্রমিক। এই ঘটনায় পরবর্তিতে মহামান্য হাই কোর্ট স্ব-প্রনোদিত হয়ে বিগত ২৫/০৪/২০১৩ একটি সুয়ো মটো রুল (সুয়ো মটো রুল নং-০৯/২০১৩) জারি করেন এবং এই সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদান করেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) একটি রীট পিটিশন (রীট পিটিশন নং-৪৩৯০/২০১৩) উচ্চ আদালতে একটি টীট পিটিশন দায়ের করা হয়। এরপর রানা প্লাজার মালিক ও অন্যান্য ৫টি প্রতিষ্ঠানের মালিক গ্রেফতার হয়। বর্তমানে মামলাগুলো উচ্চ আদালতে চলছে।