স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত এক হতভাগ্য বাবা মোকলেছুর রহমান (৫২) অন্য মাদক ব্যবসায়ীদের হুকুমে নিজের ছেলে ও পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলে জানান মোকলেছুরের ছেলে নাহিদ হাসান। সেই সাথে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে মিথ্যে খবর। মাদক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে উক্ত জুয়াড়– এবং মাদক ব্যবসায়ী মোকলেছুরের নামে এবং তার পরিবারের নামে জমি এবং ধনসম্পদ রয়েছে তা মামলা-হামলা দিয়ে সম্পত্তি গ্রাস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মোকলেছুর রহমানের এই অসামাজিক কর্মকান্ডে বিব্রত হয়ে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় উক্ত নেশাখোর এবং মাদক ব্যবসায়ী মোকলেছুরের নামে ১০/০৬/২০২০ খ্রী: তারিখে একটি এজাহার দায়ের করেছেন তারই জন্মদাতা মাতা জাহেদা বেওয়া।
দিনাজপুর কোতয়ালি থানায় দাখিলকৃত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১। রানীপুর গ্রাম (রাজাপাড়া) গ্রামের মৃত খাজমদ্দিন শাহ এর পুত্র মোকলেছুর রহমান ২। রাণীপুর (প্রধানপাড়া) গ্রামের সামসুদ্দিনের পুত্র আবেদ আলী মানিক ৩। রাণীগঞ্জ গ্রামের মোঃ এহিয়ার পুত্র মোঃ সোহেল ৪। বড়ইল গ্রামের মুজাহিদ ৫। ২নং সুন্দরবন ইউপির রামডুবি এলাকার আকতারের পুত্র তৌহিদ ৬। সুইহারী খালপাড়া, এলাকার মৃত বদর উদ্দিনের স্ত্রী ফরিদা বেওয়া এরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এরা সকলেই সদর দিনাজপুরের। জাহেদা বেওয়া বলেন, ১নং মোকলেছুর রহমান আমার নিজের গর্ভের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে ঐ সমস্ত মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে থেকে সেও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। মোকলেছুর রহমানকে সুস্থ্য জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি প্রথমে ২০১৭ থেকে ২০২০ সালে পর্যায়ক্রমে দিনাজপুরে অশ্রু এবং ভাবনাতে চিকৎসা করাই। কিছুদিন সুস্থ্য থাকার পর আমার ছেলে মোকলেছুর আবারও নেশার জগতে চলে যায়। বর্তমানে আমার নাতী সহ পরিবারের সবাই আতঙ্কে আছি। জাহেদা বেওয়া এ প্রতিনিধিকে জানান, আমার নেশারু ছেলে নেশা খেয়ে এসে যখন তখন বাসায় এসে বাড়ি বিক্রি করবে দোকান বিক্রি করবে, প্রয়োজনে পরিবারের সকলকে মামলা জড়িয়ে দিবে হুমকি-ধামকি দেয়। নেশার টাকা না পেয়ে আমার পরিবারের এবং নাতিগুলোকে বেদম প্রহার করে, দরজা-জানালায় লাথি মারে।
জাহেদা বেওয়া আরও জানান, আমার প্রতিবেশী আবেদ আলী মানিক এক সময় আমার বাসায় কাজ করতো সে সহ উক্ত সকল বিবাদীরা আমার সম্পত্তি লুট গভীর ষড়যেন্ত্র লিপ্ত রয়েছেন। উক্ত বিবাদীরা আমার বাসায় মোকলেছুর রহমানের সাথে প্রবেশ করে শ্লীলতাহানী ঘটায় এবং পরিবারের সকলকে মারধর করে এবং বলে সম্পত্তি সব লিখে দিবি নইলে মেরে লাশ গুম করে ফেলবো।
মাদকসেবী এবং মাদক ব্যবসায়ীর সন্তান মোকলেছুর রহমানের পুত্র নাহিদ হাসান। ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ পেয়ে হলিল্যান্ড কলেজে ভর্তি হয়েছিল। হতভাগ্য মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকসেবী বাবার কারণে তার শিক্ষা জীবন বন্ধ হয়ে যায় বলে সে ডুকরে কেঁদে উঠে। তার ছোট ভাই মাদ্রাসায় পড়ে। সে কোরআনের হাফেজ। বাবার অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। আমার বাবার নামে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্যের মামলা রয়েছে। নেশার কারণে আমাদের দুই ভাইয়ের শিক্ষা জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে।
জাহেদা বেওয়া বলেন, সুইহারী খালপাড়া মৃত বদর উদ্দীনের স্ত্রী মহিলা মাদক ব্যবসায়ী ফরিদা বেওয়ার কারণে আমার ছেলে মোকলেছুর রহমান মাদক ব্যবসা এবং মাদক সেবন ছাড়তে পারলো না। ফরিদা বেওয়ার নামে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় মাদক ব্যবসার মামলা রয়েছে। ফরিদা বেওয়ার মাদক মামলা নং- ০১/৩৯৯ তারিখ : ০১/০৩/২০১৭
৩নং ফাজিলপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার বাবলুর রশিদ বাবু বলেন, মোখলেছুর রহমান মাদকসেবন করে বাড়িতে থাকা তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও ছেলেদের প্রায়ই মারধর করে। মোখলেছূরের কারণে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা ।
ফাজিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে জানান, মোখলেছুর রহমান রাণীগঞ্জ ও রাণীপুর বাজারে তাকে চেনে ডাব্বু মোখলেছুর নামে। সে সরাসরি মাদকসেবন, জুয়া ও অশ্লীল কার্যকলাপে জড়িত।
এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. বজলুর রশিদ বলেন, মাদকসেবী মোকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে তার মাতা দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
দিনাজপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, জাহেদা বেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে জাহেদা বেওয়ার ছোট ছেলে মোখলেছুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বৃদ্ধা মা জাহেদা বেওয়া বলেন, আমার পরিবার নেশাখোর এবং মাদক ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। জীবনের নিরাপত্তায় ভুগছি আমরা। দিনাজপুর কোতয়ালী থানা আমার এজাহারটির দ্রুত ব্যবস্থা নিলে আমার পরিবার মূল্যবান জীবনহানী থেকে রক্ষা পাবে। তিনি সরাসরি দিনাজপুর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।