বিশেষ প্রতিবেদক (দিনাজপুর২৪.কম) সরকারের মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স ক্রাস প্রোগ্রামেও দিনাজপুরে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মাদক। জেলার চিহ্নিত মাদক বিক্রির স্পটগুলো এখনও অক্ষত। দিনাজপুর জেলা পুলিশ সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ইতোমধ্যে ৭ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। জেলায় মাদক নির্মূল করতে দিনাজপুর পুলিশ সুপার হামিদুল আলম নিরলস ভাবে বিশেষ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে চলমান বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার হননি জেলার মাদক গডফাদারের রথী-মহারথীরা। তারা অনেকটাই দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করছেন। তবে পুলিশেরর উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক প্রকাশ্যে বিক্রি হওয়ার বিষয়টি তাদের জানা নেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা এখন মাদক বিক্রির ধরন পাল্টিয়েছে। অভিযানের আগে দোকান, বাসা বা বাড়িতে বিক্রি করলেও এখন বিক্রি হয় ভ্রাম্যমাণভাবে। ক্রেতার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে উভয়ে মিলিত হয় নিরাপদ স্থানে। এভাবে প্রতিনিয়ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বড় বড় বাজারে লাখ লাখ টাকার মাদক প্রতিনিয়ত বিক্রি হচ্ছে। যার ফলে দিনাজপুর জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রভাব পড়ছে না। তবে মাদক বন্ধের অভিযানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শহরের চকবাজার, মালদাহপট্টিস্থ লাইসেন্সকৃত মদের দোকানের ব্যবসা জমজমাট ভাবেই চলছে। এ নিয়ে জেলার সচেতন নাগরিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। একটি সূত্র জানায়, সরকারের বিভিন্ন দফতর দিনাজপুরে ‘দুই ডর্জন ’ মাদক ব্যবসায়ীদের নাম ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায় গত গত মে মাসে এবং জেলা পুলিশের কাছেও গডফাদারদের একটি তালিকা রয়েছে। তারপরেও ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ এমন অবস্থায় চলছে সংশ্লিষ্ট দফতরের কাজ। সম্প্রতি শহরের বালুবাড়ি, নিউটাউন ৩-৮, সুইহারী কলেজপাড়া, মেডিকেল মোড়, পুলহাট, বাহাদুর বাজার, এলাকায় অনুসন্ধান করে দেখা যায়, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও সতর্কতার সঙ্গে চলছে ইয়াবা বিক্রি। পরে ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় পুনরায় গিয়ে দেখা যায়, একাধিক যুবক মোটরসাইকেল, রিকশা ও অটোরিকশায় এসে নিরাপদে মাদক নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকটা প্রকাশ্যেই ঘরের সামনে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু অভিযানের আগে বয়ষ্করা বিক্রি করলেও এখন একাজে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশু ও নারীদের। শনিবার দুপুরে বালুবাড়ি ও মালদাহপট্টিতে গিয়ে দেখা যায় কয়েকটি স্কুলের গেটের সামনে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লোকদের সঙ্গে মাদক হাতবদল করছে। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই সতর্ক। কীভাবে মাদক বেচাকেনা হয় তা জানতে গত শুক্রবার বিকালে পরিচয় গোপন রেখে বালুবাড়ি এক মাদক সম্রাটের সঙ্গে মুঠোফোনে ইয়াবা কিনতে চাইলে সে বলে, ‘সন্ধ্যার পর ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, নিউটাউন ৩, অথবা ৮ নম্বরে সামনে এসে ফোন দিবেন। নিরাপদে নিয়ে যেতে পারবেন কোনো অসুবিধা হবে না। পরের দিন প্রতিবেদক ওই মাদক সম্রাটের কাছে জানতে চান পুলিশ কোনো সমস্যা করবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা তো সারা জীবনই সমস্যা। এটা কোনো সমস্যা বলে আমরা মনে করি না। গাড়ি নিয়ে আসেন, নিরাপদে নিয়ে যেতে পারবেন। বালুবাড়িতে এলাকায় এক মাদকসেবীর বাসাতে বসে মাদক বিক্রি করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, দিনাজপুর জেলা সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার, বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে রমরমা মাদক বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এরা প্রতি বছরই কোটি কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা করেন। জেলা পুলিশেরর উর্ধ্বতন কর্তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ইতোমধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে ৭ জন নিহত হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্রসহ, মাদকদ্রব্য। তারা বলেন প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তথ্য পেলে নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান।
সুধী মহলের মনে করছেন সরকার সারাদেশে যাদের মদের লাইসেন্স দিয়েছে সেই যদি লাইসেন্স বাতিল করে দেন তাহলে অনেকটা মাদকবিরোধী অভিযান সফল হবে। বন্ধ হবে মাদক ব্যবসা।