(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর জেলার নশিপুরস্থ বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. এছরাইল হোসেনের বিরুদ্ধে ভূয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিএনপি-জামায়াত দলের সাথে আতাঁত করে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভিতরে অবস্থিত প্রতিভা কিন্ডার গার্টেন স্কুলটি বিএনপি-জামায়াতের নিকট সপে দেন মর্মেও অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হয়। পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয় ১৯৮৭ সালে। পরে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর নশিপুর দিনাজপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে। উত্তরবঙ্গের ও গোটা বাংলাদেশের কৃষকের উন্নত বিজ উৎপাদনের জন্যে দেশকে সমৃদ্ধশালীকরণ ও কৃষিবান্ধব দেশ হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু উন্নয়নকে ম্লান করে দিয়েছেন অত্র প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মো. এছরাইল হোসেন, উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাকিম, হিসাব কর্মকর্তা শহিদুল ও কিছু কর্তবাবুরা।
বিভিন্ন অভিযোগে জানা গেছে, প্রতিভা কিন্ডার গার্টেন স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে ড. মো. এছরাইল হোসেনের ভায়েরা মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বদরুজ্জামানকে স্কুল কমিটিতে সভাপতি করেন। টঝঅওউ প্রকল্পের পিআই কর্তৃক প্রদেয় টাকার পরিমাণ ৬ কোটি ৯ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা। যা ইতোমধ্যে সরকারি রাজস্ব বাজেটের মাধ্যমে উক্ত পরিমাণ বীজ উৎপাদন করা হয়েছে রবি মৌসুমে। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষনা ইনস্টিটিউট, নশিপুর, দিনাজপুরে ৭জন ব্রীডার বিজ্ঞানী থাকা সত্ত্বেও ড. মো. এছরাইল হোসেন (নিজে কৃষি প্রকৌশলী) ও ড. বদরুজ্জামান (যিনি মৃত্তিকা বিজ্ঞানী) কিভাবে ব্রীডার বীজ উৎপাদন করবে তা বোধগম্য নয়। অভিযোগ উঠেছে এই টাকাগুলোও নাকি আত্মসাতের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ প্রতিনিধিকে জানান, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে ফার্মে উৎপাদিত পণ্যের কোন প্রকার রিসিভিং কমিটি ছাড়াই উৎপাদিত ধান ও গম ভুট্টাার প্রজনন বীজ কোন প্রকার কমিটি যাচাই ছাড়াই অবীজ দেখিয়ে শত শত ট্রাক উৎপাদিত গম ও ভুট্টার ব্রীজ বিক্রয় করেছেন। যা গা শিউরে ওঠার মত ঘটনা। এ সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ আমলে নিয়ে দুর্নীতির তদন্ত করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আমিনুর রহমান। সেখানে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জুন মাসে খামারের ভুয়া বিল তৈরি করে শ্রমিকদের সাথে যোগসাজশ করে প্রায় ১০ লাখ টাকা মহাপরিচালক আত্মসাৎ করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। লোকজনবল নিয়োগ, পদোন্নতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন এই মহাপরিচালক বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও প্রশিক্ষণায়তনের পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও প্রাচীর নির্মাণ, ডীপ টিবওয়েল, আরএফকিউ প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ, শ্রমিক কল্যাণী, ভুট্টা কেনাকাটা, ভুট্টা শাখার গবেষনা উপকরণ, একক আবাসন ও অফিসার কোয়ার্টার মেরামত, গোডাউন মেরামত ওথ্রোয়িং ফ্লোর, খামারের ড্রেন মেরামতের কথা বলে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ আত্মসাৎ করেন মর্মে লিখিত অভিযোগে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহা-পরিচালকের ঢাকা উত্তরায় ১০নম্বর সেক্টরের ৩নং রোডে বিলাস বহুল প্লট ক্রয় করেন নাকি ড. মো. এছরাইল হোসেন। এছাড়া নামে-বেনামে অনেক সম্পত্তির মালিকও তিনি।
সবশেষ আঞ্চলিক গম গবেষণা কেন্দ্র শ্যামপুর, রাজশাহী, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইলিয়াছ কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়ে ১১/১২/২০১৮ সালে ড. মো. এছরাইল হোসেনের বিরুদ্ধে আর এফ কিউ এর মাধ্যমে মাটি ভরাটের কাজ, মাটি ক্রয়, রিপিয়ারিং, গবেষণা কর্মসূচী সহ বেশ কয়টি প্রকল্পে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জালিয়াতি করে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. এছরাইল হোসেনের সাথে অফিসে দেখা করতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি তবে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ সবই মিথ্যা। আমি অসুস্থ্য পরে কথা বলবো বলে লাইনটি কেটে দেন।
সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে এহেন দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয়রা এবং বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে কিছু কর্মকর্তা মহাপরিচালক বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ড. এছরাইলের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, যুগ্ম সচিব (গবেষণা) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। -ডেস্ক রিপোর্ট