(দিনাজপুর২৪.কম) বিরলের ১১ নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নে ভিজিএফ এর চাল বিতরনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান-মেম্বার দু’গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষে মেম্বারসহ উভয় গ্রুপের ৭ জন আহত। আহতদের মধ্যে আজাহার আলী মেম্বার দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। জানা যায়, বিরল উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের অসহায় হত-দরিদ্রদ পরিবারদের সহায়তার জন্য ভিজিএফ ৯ মে.টন ৭১০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বারগন ৯৭১ জনের তালিকা করে সুফল ভোগিদের মাঝে স্লিপ বিতরন করা হয়। গত বুধবার সকাল থেকে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, মেম্বার ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ভিজিএফ এর চাল বিতরন শুরু করা হয়। বিতরন শেষে ১৯ বস্তা চাল ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। ভিজিএফ এর ১৯ বস্তা চাল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাতেই সড়িয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করবে বলে আজাহার আলী মেম্বার প্রচারনা চালায়। চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালেই ১৯ বস্তা চাল বিতরনের সময় আজাহার আলী মেম্বার বাঁধা প্রদান করায় চেয়ারম্যান গ্রুপের সাথে আজাহার আলী মেম্বার গ্রুপের মাঝে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় আজাহার আলী মেম্বার ও তার পুত্র আল আমীন, বাবুল হোসেন মেম্বার এবং চেয়ারম্যানের গ্রুপরে ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম খোকন, যুগ্ন আহ্বায়ক মাসুদ রানা, জমিল হোসেন, রাসেলসহ বেশ ক’জনে আহত হয়। আহতদের মধ্যে আজাহার আলী দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যান্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বুধবার বেলা ৪ টা পর্যন্ত ভিজিএফ চাল বিতরন করতে সময় না থাকা অবশিষ্ট ৯৭ জন বাকি ছিল। তাদের পরেরদিন বৃহস্পতিবার সকালে চাল বিতরন করার কথা বলে বন্ধ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মেম্বার ও স্থানীয় গন্যমান্য এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ১৯ বস্তা চাল বিতরন সুষ্ঠ্যভাবে বিতরন সম্পন্ন করা হয়েছে। আজাহার আলী মেম্বার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা ভিজিএফ এর ১৯ বস্তা চাল চুরি করার চেষ্টা করেছিল। ৪ জন গ্রাম পুলিশ পাহারা থাকায় তা ব্যর্থ হয়ে আজ বৃস্পতিবার ক্ষিপ্ত হয়ে চাল বিতরনে বাঁধার দেয়ার চেষ্টা করেছিল বলে জানান। আজাহার আলী মেম্বার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চেয়ারম্যানের হাতে প্রায় ১০০ স্লিপ ছিল। সেই স্লিপের ২২ বস্তা চাল রাতের অন্ধকারে চেয়ারম্যান বিক্রি করে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে। আমি জানতে পেয়ে রাতে পরিষদ থেকে চাল বাহির করতে বাঁধা দিলে চাল বাহির করতে পারেনি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চেয়ারম্যান স্লিপগুলো সুফলভোগিদের মাঝে পৌঁছে দেয়। কেন আজ স্লিপ বিতরন করা হবে এ কথা বলতে গেলে চেয়ারম্যানের লোকজন আমার উপর চড়াও হয়ে মারপিট শুরু করে বলে জানান।  বিকালে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। -আতিউর রহমান