স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে আদালতের নির্দেশে শহরের স্টেশন রোডে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভেঙ্গেছে দোকান ঝড়েছে চোখের পানি। দেখেছে সবাই মানুষের আহাজারি। কারণ স্বাধীনতার পর থেকেই গড়ে উঠা দোকান উচ্ছেদ হওয়া দোকানী ও ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। সেই সাথে হোটেল ব্যবসায়ী হাসিনুর তাঁর বৃদ্ধা মা, পরিবার সহ স্টেশন রোডে থাকতেন। তার হোটেল ও বাড়ি বুলডেজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তার পরিবারের কান্নায় আকাশ যেন ভারি হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশ মানতেই হবে সবাইকে।
বৃহস্পতিবার সকালে দিনাজপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নেতৃত্বে ঢাকা দেউলিয়া আদালতের নির্দেশে স্টেশন রোড সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরিফুল ইসলাম। ঘটনার প্রত্যক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২০ শতক জায়গায় বিভিন্ন দোকান ঘর স্থাপন করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল বিভিন্ন এলাকার লোকজন। কিন্তু ক্রয়সূত্রে জমির প্রকৃত মালিক ব্যারিস্টার ওয়াহিদুল জামান বুলবুল। দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা ক্রয়সূত্রে মালিকের সম্পত্তি অবশেষে ঢাকার দেউলিয়া বিষয়ক আদালত এর দায়রা জজের নির্দেশে উক্ত এলাকায় দখলকৃত দোকানদারদের দোকানের স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিককে সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন। উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত থেকে দিনাজপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরিফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবু দাইয়েন, কানুনগো ছাইফুল আলম, পৌরভূমি সহকারী তহসীলদার বাবুল আক্তার, দিনাজপুর কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ সহ তার সঙ্গীয় ফোর্স উক্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। ঘটনার সূত্রে আরো জানা যায় যে, উক্ত সম্পত্তির উপর জয়সিল্ক টেক্সটাইল মিলস্ অগ্রণী ব্যাংক লিঃ ঢাকার দিলকুসা শাখা হতে ঋণ গ্রহণ করে। উক্ত ঋণের টাকা যথাসময়ে ব্যাংকে পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি নিলাম ঘোষণা করে। আদালত কর্তৃক নিলামের তপশীল বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ঈদগাঁহ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ব্যারিস্টার বুলবুল আদালত থেকে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ব্যাংকের সাথে মামলা চলমান অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট হতে ব্যারিস্টার বুলবুল প্রকৃত ক্রয়সূত্রে মালিক স্বত্বে রায় পায়। ঢাকা থেকে পরিচালিত দেউলিয়া বিষয়ক আদালতের রায় নিয়ে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতায় উক্ত সম্পত্তি দখল পায়।
উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের দাবি তারা নিয়মিত পৌরকর, বিদ্যুৎ বিল সহ সরকারি সকল নির্দেশনা মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তাদের আরও অভিযোগ তাদের নাকি দোকান ছাড়ার বিষয়ে কোন নোটিশ অগ্রিম প্রদান করা হয়নি। হঠাৎ করেই এ রকম দৃশ্যপাট দেখে অনেকেই হতভম্ব হয়ে যায়। অনেক দোকান মালিকের দাবি তারা আহলে হাদিছ মসজিদ মার্কেটের সাবেক সভাপতি/ সেক্রেটারীর নিকট মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে দোকান লিজ নিয়েছিলেন। তারা বর্তমানে মৃত। এখন কিভাবে সেই টাকা ফেরত নেবেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, বর্তমানে আহলে হাদিছ মসজিদ কমিটির সভাপতি/ সেক্রেটারীর সাথে তিনি টাকা বিষয়ে যোগাযোগ করলে তারা কোন প্রকার কথা বলেননি। ব্যবসায়ীরা এখন কি করবেন? পান দোকানদার সিরাজ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এদিকে রঞ্জন কম্পিউটার অপারেটরও ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। সদ্য স্বামীহারা বন্ধু হোটেলর স্ত্রীও কেঁদে কেঁদে পাগল প্রায়। কি করবে এখন তারা ?