(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে বৈরি আবহাওয়ার মাঝেও মৌসুমী ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি বছর দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় লিচু, কাঁঠাল ও আম সহ প্রচুর পরিমান মৌসুমী ফলের ব্যাপক বাম্পার ফলন হয়েছে। যা, গত বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। দিনাজপুরের বিখ্যাত লিচু বিশেষ করে বিরল উপজেলার বেদনা, চায়না- থ্রি, মাদ্রাজী, মুম্বাই ও কাঁঠালী জাতের লিচুর ফলন ব্যাপক হয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোতয়ালীর মাসিমপুর, চেরাডাংগী, মালীগ্রাম, ফুলতলা, নুনসাহার, কমলপুর ও খানপুর সহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে এ বছর দিনাজপুর জেলায় বৈরি আবহাওয়ার মাঝেও লিচুর ব্যাপক বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি বছর গাছগুলোতে মুকুল আসার সময় প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি হয়। তার পরেও এ গাছগুলোতে উপেক্ষা করে আল্লাহর রহমতে ভাল ফলন হয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলার পুরাতন নিউ মার্কেট (ফল বাজার), এন,এ, মার্কেট (বাহাদুর বাজার), রেলবাজার, শিকদারহাট, খানসামা (পাকেরহাট), দিনাজপুর ১০ মাইল মোড় সহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, লিচু চাষীরা প্রচুর পরিমান লাল রঙের টসটসে তাজা লিচু খাঁচায় করে খুচরা ও পাইকারী দরে বিক্রি করছেন। লিচুর জাতভেদে, দাম অনুযায়ী বেদনা প্রতি’শ ৫৫০-৬০০ টাকা, চায়না-থ্রী প্রতি’শ ৪৫০-৫০০ টাকা, মাদ্রাজী প্রতি’শ ৩৫০-২৫০ টাকা, মুম্বাই প্রতি’শ ৩০০-৩৫০ টাকা ও কাঁঠালী প্রতি’শ ১৫০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব লিচু দিনাজপুর জেলা শহর থেকে কোচ, ট্রাক, ট্রলি, ট্রেন ও বিভিন্ন যানবাহনে খাঁচা ভর্তি করে পাইকাররা রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে  লিচুর বাম্পার ফলন হলেও লিচুর বাজারে সাধারন ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। কারন হিসেবে সাধারন মানুষ জানান, এসব লিচু দিনাজপুরের বাইরে যাওয়ার কারনে খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা লাভ করছেন। আর সাধারন মানুষ বেকায়দায় পড়েছেন। অপরদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, তারা লিচু গাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে গাছগুলো বিভিন্ন শর্তে বেশি দাম দিয়ে কিনে নিয়েছেন। তারপর শ্রমিক, যানবাহন, খাঁচা, দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ, ভ্যাট সহ বিভিন্ন কারনে লিচুর দাম বেশি। তাই কমদামে লিচু বিক্রি করতে পারছেন না। ঘুরে ফিরে একই কথা আম ও কাঁঠাল ব্যবসায়ীদের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই লিচুগুলো ঢাকার বেশ কয়েকটি নামকরা প্রতিষ্ঠান কিনে নিচ্ছেন। কারন তারা মৌসুমী লিচু কিনে ছোট বাচ্চাদের জন্য কৃত্রিম লিচু তৈরি করে বেশি দামে বাজারজাত করছেন। এ কারনেই দাম বেশি। যদিও দিনাজপুরের মানুষ লিচু কিনছেন তবুও  দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে রেসারেসি হচ্ছে।  কারন এসব মানুষ জানান, আমাদের জেলার লিচু আমাদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হবে। তা, নাহলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা কি খাবে? এ ধরনের অনেক প্রশ্ন মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে। যার কোন উত্তর পাওয়া যায় না। প্রশাসন যদি একটু এ ব্যাপারে সুদৃষ্টি দেন, তবে হয়তো লিচুর বাজার নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। – (আল আমিন জামিনুর)