এম.এ.সালাম (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে বৃষ্টির দেখা মিলছে না। ইরি বোর মাঠ জুড়ে সর্বত্রই চলছে পানির জন্য হাহাকার। এখনও হয়নি কাক্সিক্ষত বৃষ্টি। মাঠ তৈরি করতে পারেনি অনেক কৃষক। যে সকল কৃষক বিকল্প সেচের মাধ্যমে চারা রোপণ করছেন তাতে উৎপাদন খরচ পড়ছে বেশি। কৃষকের বীজতলা প্রস্তুত থাকলেও পানি সংকটে পতিত পড়ে রয়েছে জমি। ফলে বৃষ্টি নির্ভর ইরি বোরো চাষ হুমকির মুখে। চাষি কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে দিনাজপুর জেলার প্রতিটি উপজেলায় আকাশের ভারী কোন বৃষ্টিপাত হয়নি। পানির অভাবে উপজেলার গোটা এলাকার আবাদি জমিগুলো এখনও পড়ে রয়েছে। পানির অভাবে কৃষকরা ইরি বোর ধান লাগানোর জন্য জমি চাষ বা তৈরি করতে পারছে না। এ বছর ঐ সময় তেমন বৃষ্টিপাত না হলেও টিপির টিপির বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা আকাশের ঐ অল্প পানি আর পুকুরে থাকা কিছু পানি দিয়ে ইরি বোর বীজ বুনে শেষ করেছেন। সকল কৃষকের বীজগুলোর জমিতে লাগানোর উপযুক্ত হলেও এখন আকাশের ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকরা জমি চাষ পর্যন্ত করতে পারছেন না। কৃষকরা জানান, তারা জমিতে ছাই দেয়া, আইলের মুখ কাটা, কোল টানা শেষ করেছেন। বাকি রয়েছে শুধু আইল বান্ধা ও চাষ করা। আকাশের বৃষ্টি না হলে এ এলাকায় আবাদ হবে না ভেবে কৃষকরা এখন দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। তাই কৃষকের চোখ এখন আকাশের দিকে পানির জন্য।
জানা গেছে, ইরি বোর চাষের শুরুতে বৃষ্টির পানির অভাবে কৃষক পুকুর, নালা, খাল বিভিন্ন উৎস হতে সেচের মাধ্যমে তাদের বীজতলা তৈরি করে তাতে বীজ বুনেছিল। এখন কৃষকের সে বীজগুলো বেশ সবল সতেজ হয়ে রোপা লাগানোর উপযোগী হয়ে উঠেছে। কিন্তু এখনও মাঠে পানি না থাকায় কৃষকগণ তাদের চারাগুলো রোপণ করতে পারছে না। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক মাঠ প্রস্তুত করলেও পরবর্তীতে তা পানি সংকটে শুকিয়ে পড়ে রয়েছে। এমন শুকিয়ে পড়া জমি পুনরায় প্রস্তুত করতে কৃষকের খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হবে বলছেন চাষিরা। উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষক সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বাড়তি সেচের যোগান দিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। এছাড়াও একটানা তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ১০নং কমলপুর ইউনিয়নের বড়গ্রাম গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, ‘‘সেচ সংকটের কারণে তার ২ ইরি বোরো ক্ষেত শুকিয়ে মাটি ফাটার উপক্রম প্রায়। এছাড়াও আরো ৪ বিঘা জমি তিনি প্রস্তুত করতে পারছেন না ইরি বোরো রোপণের জন্য। এদিকে বীজতলার চারার বয়স বাড়ায় ধানের ফলন নিয়েও বেশ উদ্বিগ্ন তিনি।
দিনাজপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইকবাল বলেন, বেশ কয়েক দিন থেকে অনাবৃষ্টি চললেও ইরি বোরো চাষের এখনও সময় রয়েছে। তাছাড়া বিকল্প সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষক ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ ইরি বোরো চারা রোপণ করে ফেলেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাকি জমিতেও কৃষক চারা রোপণ করে ফেলতে পারবেন।