স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম)  সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরেও মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় জেলাবাসি স্মরন করেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
২৬ মার্চ উপলক্ষে সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করে। এসব কর্মসুচীর মধ্যে ছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা, রক্তদান কর্মসূচী, মসজিদে মসজিদে বিশেষ মুনাজাত ও অন্যান্য উপসনালয়ে প্রার্থনা, হাসপাতাল-কারাগার, ভবঘরে কেন্দ্রসমূহে ও শিশু সদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ইত্যাদি।
২৬ মার্চ শনিবার দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২.০১ মিনিটে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত শহীদ স্মতিস্তম্ভে পুস্পাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। এর পর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, ও পুলিশ সুপার মোঃ রুহুল আমিন।
এর পর জেলা আওয়ামীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব মো. আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোঃ সিদ্দিক গজনবী’র নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ, এর পর শদ্ধা নিবেদন করেন দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও পৌরসভা কাউন্সিলরবৃন্দ, জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ, জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের (একাংশের) সভাপতি মতিউর রহমান’র নেতৃত্বে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, প্রেসক্লাব (অপর অংশের) সভাপতি চিত্ত ঘোষের নেতৃত্বে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি ওয়াহেদুল আলম আর্টিষ্ট’র নেতৃত্বে সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলালীগ।
এ ছাড়া শহীদদের প্রতি শদ্ধা নিবেদন করেন জেলা আইনজীবী সমিতি, দিনাজপুর সিভিল সার্জন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, জেলা জাতীয় পার্টি, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি, জেলা জাসদ, কমিউনিষ্ট পার্টি, জেলা জাগপা, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ, উদীচি, নবরুপী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, দিগন্ত শিল্পীগোষ্ঠি, নাগরিক ফোরাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, ইকবাল স্কুল, দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল (বাংলা স্কুল), জাতীয় মহিলা সংস্থা, পল্লী শ্রী বালুবাড়ী, নির্মাণ মিস্ত্রি শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।
চেহেলগাজী মাজারে বিভিন্ন সংগঠন পুস্পাঞ্জলি অর্পনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া জেলা সদরসহ ১৩ উপজেলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ঃ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ শনিবার গোর-এ-শহীদ বড়মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে দিনাজপুর জিলা স্কুল, সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল (বাংলা স্কুল), জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, ইকবাল উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সারদেস্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তফি উদ্দীন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজ, সেন্ট ফিলিপস্ উচ্চ বিদ্যালয়, মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয়, রয়েল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল, পীচ স্কুলসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও শিশু-কিশোর সংগঠনের সদস্যরা। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম ও পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন। কুচকাওয়াজে ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন শারিরীক কসরত প্রদর্শন করে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ অন্যান্য সধীবৃন্দ কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।
হাবিপ্রবি ঃ যথাযোগ্য মর্যাদা ও দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে শনিবার হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০১৬ পালিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে একাডেমিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল সোয়া ৮টায় হাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীেেদর নিয়ে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। সকাল সাড়ে ৮ টায় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাবিপ্রবি’র কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
ক্রমান্বয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, সাদা দল, প্রগতিশীল কর্মকর্তা পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, হলসমূহ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (হাবিপ্রবি শাখা), হাবিপ্রবি হলসমূহের ছাত্রলীগ শাখা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (হাবিপ্রবি শাখা), প্রগতিশীল কর্মচারী পরিষদ, হাবিপ্রবি স্কুলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাইস-চ্যান্সেলরের ২৬ মার্চের বাণী পাঠ ও বিতরণ করা হয়।
এর পর দিবসের তাৎপর্যের উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ডা. এসএম হারুন-উর রশীদ সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন বলেন, বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে এ দেশের মুক্তি পাগল মানুষ শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ। শুরু হয় আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম আর সাহসিকতার এক নতুন অধ্যায়। অবশেষে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর অগণিত মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল’র মাধ্যমে মানবতা বিরোধীদের বিচার করে চলেছেন। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যয় নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে চলেছেন তা বাস্তবায়িত হবে।
প্রদান করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. সাইফুদ্দিন দরুদ’র সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. আনিস খান, পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. বলরাম রায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. সাইফুর রহমান, ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের মোহাম্মদ ফেরদৌস মেহবুব, প্রগতিশীল কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি কৃষিবিদ মো. ফেরদৌস আলম, সাধারন সম্পাদক আনম ইমতিয়াজ হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখার শেখ রাসেল হলের সভাপতি মো. রুহুল কুদ্দুস জোহা, কার্যকরী কমিটি’র সদস্য মমিনুল হক রাব্বি, প্রগতিশীল কর্মচারী পরিষদের পক্ষ থেকে সাধারন সম্পাদক পারভেজ হোসেন, আব্দুর রহিম প্রমূখ।
পরে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, শিক্ষক বনাম ছাত্র, কর্মকর্তা বনাম কর্মচারী, বিদেশী ছাত্র বনাম দেশী ছাত্রদের মধ্যে প্রীতি ভলিবল, শিক্ষিকা বনাম ছাত্রীদের মধ্যে মিউজিক্যাল চেয়ার প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। খেলাধুলা শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। বাদ যোহর শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মুনাজাতের আয়োজন করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিন ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।