মো. জাহাঙ্গীর (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার বিদ্যালয়ের গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে মারধর করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি। এ ঘটনায় শিক্ষক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলার উত্তর কালিকাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কাঁঠাল গাছ কেটে বিক্রি করে দেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার স্বামী জাকিরুল ইসলাম। গোপনে গাছ কাটা দেখে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাজেদুর রহমান ঘটনাটি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেন। শিক্ষা অফিসার গতকাল বুধবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দা পারভীন ও সভাপতি আবু জাফর মনসুর কে ডেকে কমিটির সিদ্ধান্ত ও সরকারী বিধি অমান্য করে গাছ কাটার কৈফিয়ত তলব করেন। এতে অভিযোগকারী শিক্ষকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা মুক্তা। পরদিন বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষক সাজেদুর রহমান স্থানীয় কালিকাপুর নয়াবাজারে গেলে তার ওপর হামলা চালান মোস্তফা। শিক্ষককে মোটর সাইকেল থেকে টেনে হেঁচড়ে নামিয়ে ভরা বাজারে মারধর করেন। এতে ওই শিক্ষক বাম চোখ গুরুতর জখম হয়। এ সময় ভাতিজা (শিক্ষক সাজেুদর রহমান) কে বাঁচাতে তার চাচা মুক্তিযোদ্ধা তহুবার রহমান এগিয়ে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র নিয়ে কোপাতে উদ্যত হন মোস্তফা। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন লাঞ্চিত শিক্ষক।
অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, তিনি যে গাছটি কেটেছেন সেটি বিদ্যালয়ের জমির বাইরে অবস্থিত। মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দা পারভীন বলেন, বিদ্যালয়ের জমিতে একটি কাঁঠাল গাছ ছিল। গাছ কাটার বিষয়ে কমিটিতে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি গাছ কাটার কথা জানতেন না। কাটার পর জানতে পারেন। উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধর মেনে নেয়া হবে না। কমিটির সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে রুখে দাঁড়াবে পার্বতীপুরের শিক্ষক সমাজ। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গাছ কাটা এবং শিক্ষককে মারধরের ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।