(দিনাজপুর২৪.কম) বয়সসীমা আটকে রাখতে পারছে না দিনাজপুরবাসীর নয়ন মনি ও বিশিষ্ট সমাজ সেবীব্যাক্তিত্ব লৌহমানব মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে।  বয়সের সাথে তাল মিলিয়ে বাধ্যক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌছেও তারুণ্যের উচ্ছলতা নিয়ে একের পর এক উন্নয়ন কাজ করেই চলেছেন মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসচিব বরাবর আদেবন করার প্রেক্ষিতে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে ২০১৩ অনার্স কোর্স বাস্তবায়নের ধারা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গ ক্রমে ১৯৬৩ সালে মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর পিতা মরহুম নুরুল হুদা চৌধুরী সাবেক এমএনএ এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং অত্র অঞ্চলের সর্বস্তরের জনগনের সহযোগীতায় ফুলবাড়ী কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। যা ১৯৮৯ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ.এম এরশাদ কর্তৃক তা জাতীয় করণ করা হয়। অবশেষে মোহাম্মদ আলী চৌধুরী কর্তৃক ০৩/১০/২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং একই মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দরখাস্তের মাধ্যমে ২০১৩ সালে বাংলা এবং গণিত স্বাস্ত্রে অনার্স কোর্স বাস্তবায়ন করা হয়। পুনরায় ০২/০৯/২০১৪ সালে মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর দরখাস্তে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে ইংরেজী, রাষ্ট্রবিজ্ঞাণ, দর্শন ও রসায়ন স্বাস্ত্রে অনার্স কোর্স বাস্তবায়ন করা হয়। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সাল থেকে অনার্স কোর্স বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর থেকে অত্র প্রতিষ্ঠানে অদ্যাবদি প্রয়োজনীয় কোন অবকাঠামোই নির্মিত হয়নি। যে কারনে সেখানে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষে সাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার জরুরী সমাধান করত: অত্র অঞ্চলের ফুলবাড়ী ও পাবর্তীপুর সহ ৭টি উপজেলার ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দের লিখাপড়া সুষ্ঠরূপে পরিচালনা করার জন্য ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে পূর্নাঙ্গ অনার্স কোর্স বাস্তবায়ন করার জন্য মোহাম্মদ আলী চৌধুরী জোর দাবী জানিয়েছেন। সেই সাথে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজকে একটি বাস্তবমুখি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য উক্ত কলেজে ১টি ছাত্রী হোস্টেল ও শিক্ষকবৃন্দের বসবাসের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। অন্যথায় অত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠরূপে পরিচালনা করা কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অত্র কলেজে লিখাপড়ার অতিরিক্ত চাপ নিরশন কল্পে অতিরিক্ত একাডেমীক ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয়ের শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষাসচিব বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। বিশেষ ভাবে উল্লেখ যে, একই দরখাস্তে উল্লেখিত সমস্যাগুলি সমাধান করত: ফুলবাড়ী সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তিত করনে বিশেষ ভাবে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। যাতে অত্র অঞ্চলসহ সারা জেলার ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ ফুলবাড়ী সরকারী কলেজ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন। যে দিন ফুলবাড়ী সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তিত করা হবে, সেই দিনই ফুলবাড়ী উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। সেই সাথে ১৯৬৩ সালে মরহুম নুরুল হুদা চৌধুরীসহ সর্বস্তরের জনগনের আশা আকাঙ্খার পূর্ণ বিকাশ ঘটবে। এখানে বিশেষ উল্লেখ যে, ১৯৬২ সাল থেকে শুরু করে মোহাম্মদ আলী চৌধুৃরী তার পিতার সঙ্গে থেকে তাকে জাবতীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশেষ ভাবে সহযোগীতা করেছেন।
মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর বিশেষ প্রচেষ্টায় ১৯৮০ এর দশক’র শেষ দিক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কলেজিয়েট গালর্স স্কুল এন্ড কলেজ একটি প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাপিঠে আতœপ্রকাশ করেছে। সেই সাথে নথি থেকে যা জানা যায়, তাতে মোহাম্মদ আলী চৌধুরী কর্তৃক ২৫/০৯/২০০৭ সালে সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর দাখিলকৃত দরখাস্তের মাধ্যমে কলেজিয়েট গালর্স স্কুল এন্ড কলেজে কলেজ বিল্ডিং নির্মাণের অনুমোনের প্রেক্ষিতে কলেজিয়েট স্কুলে কলেজ বিল্ডিং নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং এর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। মোহম্মদ আলী চৌধুরীর প্রচেষ্টায় কলেজিয়েট গালর্স স্কুল এন্ড কলেজে যে উন্নয়নগুলি বাস্তবায়িত হয়েছে তা হচ্ছে ১। আরডিআরএস ঠাকুরগাঁও কর্তৃক একটি টিন সেট বিল্ডিং নির্মাণ। (২)। ২০/১২/১৯৯২ সালে মোহাম্মদ আলী চৌধুরী কর্তৃক শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর উপস্থাপিত দরখাস্তে এবং তার আদেশে ১৯৯৪ সালে কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজে স্কুল শাখার জন্য একটি ২য় তলা বিল্ডিং নির্মিত হয়। (৩) অত্র প্রতিষ্ঠানে সাবেক সভাপতি এডিসি রেভেনু এর বিশেষ সহযোগীতায় অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কমনরুম এবং বিজ্ঞানাগার নির্মিত হয়। এরপরে জেলা পরিষদ সচিব বরাবর দরখাস্ত উপস্থাপনের ভিত্তিত্বে ছাত্রীদের জন্য টয়েলেট নির্মিত হয়। তারই প্রচেষ্টায় কার্যক্রমের ভিত্তিতে অত্র প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি শ্রেণী কক্ষে বৈদ্যতিক পাখা ও বাল্প প্রদান করা হয়। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীবৃন্দের জন্য ইউনিফোর্ম হিসেবে পুরুষদের বছরে ১টি করে সাফারি সুট এবং মহিরাদের জন্য শাড়ী ও ব্লাউজের প্রচলন চালু করেন। এসকল স্থাপনা এবং ব্যবস্থা বাস্তবায়নে অত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি এবং সদস্যবৃন্দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে সর্বত্র ভাবে সহযোগীতা করেন।
দিনাজপুর জেলার অবহেলিত রাস্তাঘাট, কালভাট, ব্রীজ ও বাঁধসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে তাঁর অবদান অপরিশীম। তুলনা হয় না। এছাড়া মোহাম্মদ আলী চৌধুরী কর্তৃক বিদ্যুৎ জ্বালানী ও ক্ষনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়’র সচিব বরাবর ১৯৮৭ সালে দাখিলকৃত দরখাস্তের ভিত্তিতে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯০/১৯৯১ সাল থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। সেই সাথে জয়নগরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর প্রধান কার্যলয় স্থাপিত হয়। নির্বাচিত কোন জনপ্রতিনিধি না হয়েও শুধুমাত্র দেশের একজন সাধারণ নাগরিকের পক্ষে এতগুলি প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে সর্বস্তরের জনগণ মোহাম্মদ আলীকে লৌহমানব উপাধিতে ভূষিত করেছে। সেই সাথে ফুলবাড়ী ও দিনাজপুর প্রেসক্লাবে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে।