আব্দুস সালাম, হেড অব নিউজ (দিনাজপুর২৪.কম) এই হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার ১৯ ফেব্রুয়ারী দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার রাণীবন্দরের পশ্চিমে ১১নং তেতুলিয়া ইউপির তেতুলিয়া শাহাপাড়া নামক গ্রামে। ঘটনার বিবরনে মেয়ের পিতা মোঃ নাছির জানান, আজ থেকে ৩ বছর আগে দিনাজপুর সরকারি কলেজে ডিগ্রীতে পড়াশুনার সময় তাদের মধ্যে প্রেম ভালোবাসার সর্ম্পক হয়। পরর্বতীতে পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। গত শুক্রবার বেলা আনুমানিক ১২টায় ভাগিনা মোঃ রাশেদ এর মুখে শুনতে পান তার মেয়ে মোছাঃ জেয়াসমিন আরা পপি (৩০) কে, জামাতা মোঃ হাসমত (৩০) বেধরক মারপিট ও রক্তাক্ত জখম করে বাড়ীতে তালাবদ্ধ অবস্থায় আটক করে রেখেছেন পরিবারের লোকজন। এহিন খবর পেয়ে মেয়ের পিতা রাণীবন্দর শাহাপাড়া গ্রামে যান, ভাগিনা রাশেদ চিরিরবন্দর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে এস.আই সুকুমার রায়, সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে বেলা আনুমানিক ২.৩০ মিনিট সময় একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ১৩ মাস বয়সী শিশু বাচ্চাটিকে শশুড় (মোঃ নাছিরের) নিকট সপর্দ করেন। এরপর শাহাপাড়া রাণীবন্দর থেকে তিন চাকা ভ্যানযোগে দিনাজপুর সদর কাঞ্চন কলোনী এলাকায় আসার পথিমধ্যে রাণীবন্দর ভুষিবন্দরের মাঝামাঝি এলাকায় জামাতা মোঃ হাসমত, তার ভাই সহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫টি মটরসাইকেল যোগে এসে অতর্কিত ভাবে ফিল্ম স্টাইলে পথরোধ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধরক মারধর করে ১৩ মাস বয়সী শিশু বাচ্চাটিকে কেড়ে নিয়ে যায়। উপায় অন্তর না পেয়ে পূনরায় আবারও স্ব-পরিবারে চিরিরবন্দর থানায় উপস্থিত হন। যে দেশীয় অস্ত্রগুলি দিয়ে মারধর করা হয়েছে সেগুলো ডিউটি অফিসারের নিকট জমা দেওয়া হলে তিনি বলেন, আপনারা আগে হাসপাতালে ভর্তি হন কিছুটা সুস্থ্য হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শিশু বাচ্চাটিকে হারিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন অসহ্য যন্ত্রণায় ছটপট করছেন মাতা মোছাঃ জেয়াসমিন আরা পপি। বারবার বলছেন আমার দুগ্ধজাত শিশুটিকে আমার কোলে ফিরিয়ে দিন। বর্তমানে দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪র্থ তলা ইউনিট-২ বেড নং-১৯ এ গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনাটির ব্যাপারে দিনাজপুর চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ সুব্রত কুমর সরকার জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন অভিযোগ পেলে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।