(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কায়েমপুর শাহা পাড়া গ্রামে একটি পরিবারকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মসজিদে মায়ের দান করা জমি ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করার কারণে তাদেরকে একঘরে করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভূক্তভোগী পরিবারটি জীবণের নিরাপত্তা চেয়ে এ বিষয়ে খানসামা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে খানসামা উপজেলার ৪ নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের কায়েমপুর শাহা পাড়া গ্রামের মোঃ ওবায়দুল হকের পরিবারের সঙ্গে। তবে গ্রাম্যসরদার ও মসজিদের ইমাম তাদের আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবী পরিবারটির সদসদের ব্যবহার ও আচরণ ভাল নয় তাই তাদের সঙ্গে গ্রামের মানুষ কথা বলেনা ও মিশে না।
জান গেছে, কায়েমপুর শাহা পাড়া গ্রামের মোঃ ওবায়দুল হকের স্ত্রী মোছাঃ সাহিদা বেগমের মা মরহুমা চাহার বিবি কায়েমপুর শাহা পাড়া জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য বেঁচে থাকাকালীন সময় ৭ শতক জমি দান করেন। সম্প্রতি সময় মসজিদ কমিটি মসজিদের উন্নয়ন কাজের জন্য জমিটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে গৃহবধু মায়ের দান করা জমিটি ক্রয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু মসজিদ কমিটি জমিটি তার কাছে বিক্রি করবে না বলে জানিয়ে দেয়। এ কারণে সাহিদা বেগম গত ৪ মার্চ মসজিদের জমি অনৈতিকভাবে বিক্রি করার অভিযোগ এনে জমিটি ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মসজিদ কমিটির সরদার ও মোছাঃ সাহিদা বেগমকে ডেকে পাঠায়। সেখানে এ বিষয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয় । শুনানীর সময় জানা যায় যে, মসজিদ কমিটি জমিটি আগেই জনৈক জামালের কাছে বিক্রি করেছে। কিন্তু কোন কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দেখাতে পারেননি। এ কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি। কিন্তু দুই পক্ষই দাবী করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। মোঃ ওবায়দুল হক ও তার স্ত্রী মোছাঃ সাহিদা বেগম জানায়,এই ঘটনার পর গত শুক্রবার সমজিদ কমিটি জুম‘আর নামাজ শেষে বৈঠকে বসেন এবং মসজিদের ইমাম আব্দুল মজিদ বলেন যে, মোছাঃ সাহিদা বেগম মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে দশ জামায়াতকে অপমান অপদস্ত করেছে। তাই এখন থেকে তাকে এক ঘরে করা হল। তাদের সঙ্গে কেউ মেলা মেশা করবেনা, কথা বলবেনা, কেউ তার বাড়ীতে যাবেন এবং তাদেরকে কার বাড়ীতে যেতে দেয়া হবেনা। যদি কেউ তাদেরকে কোন প্রকার সহযোগীতা করে বা তাদের সঙ্গে মেলামেশা করে তাহলে তাদের ক্ষেত্রেও একই শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে মসজিদের সরদার আফসার আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ধরণের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান। তবে অন্যান্যসব ঘটনা স্বীকার করে বলেন পরিবারের সদস্যরা ভাল মানুষ নয় তাই তাদের মঙ্গে কেউ মিশেনা। এ ব্যাপারে মসজিদের ইমাম আব্দুল মজিদ বলেন, আমি কোন ফতোয়া দেই নি। কিš ‘ মোঃ ওবায়দুল হক ও তার পরিবারের সদস্যরা এই জামায়াতে নামাজ পড়েনা তাই তাদের সঙ্গে কেউ কথা বলেন না। বিষয়টি নিয়ে এলাকার আব্দুল হালিম, আফজালসহ এলাকার লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা এই প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করেন যে, কেন তাদেরকে এক ঘরে করা হয়েছে আপনারাই বলেন। এ ব্যাপারে ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার মমতাজ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে বিস্তারিত কিছু জানিনা। এ ব্যাপারে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মোঃ ওবায়দুল হক খানসামা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন । লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাদেরকে একঘরে করে দেয়ার পর শুক্রবার দুপুরে আব্দুল মজিদ মুন্সি, মোঃ মহসীন মুন্সি,আবু বক্কর সিদ্দিক ও মোতাহার হোসেন লাঠি সোঠা নিয়ে গিয়ে শাষিয়ে এসেছেন। এই ঘটনা শুনে রবিবার সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করায় তিনি সাংবাদিকদের ডেকেছেন বলে আবার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন।
অভিযোগ পেয়ে খানসামা থানার ওসি আব্দুল মতিন প্রধান ঘটনাটি তদন্তের জন্য এস আই দুলালকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বার্হী অফিসার আহম্মেদ মাহবুবুল ইসলাম মসজিদের জমি বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় এক ঘরে করে রাখার বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে এধরণের ঘটনা ঘটলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।