মোঃ আব্দুল আজিম (দিনাজপুর২৪.কম)  দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার ১০৭ বছর বয়সের বৃদ্ধ দিবেন্দ্র নাথ রায় দেশের বৃটিশ পাকিস্থান ও বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধসহ করোনা যুদ্ধেও তিনি বেঁচে রয়েছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে তিনি তার শেষ ইচ্ছা একমাত্র পুত্রের ছেলে নাতি বিরাম চন্দ্র রায়ের একটি সরকারী চাকুরীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আবেদন জানিয়েছেন।
দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ৪০ কিঃমিঃ দুরে অবস্থিত চিরিরবন্দর উপজেলার ৩নং ফতেজংপুর ইউনিয়নের কিসমত মালীপাড়া গ্রামে বসবার করেন কালের সাক্ষী ১০৭ বছর বয়সের বৃদ্ধ দিবেন্দ্র নাথ রায়। তিনি ১৯১৩ সালের ১০ মে ওই গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার বাবা বিপিন চন্দ্র রায়, মাতা লক্ষ্মী বালা রায়। তিনি ব্যাক্তিগত জীবনে তৎকালিন সময়ে চিরিরবন্দর উপজেলার ডাঙ্গারহাট কালিচাঁদ হাই স্কুল থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তৎকালিন সময়ে গ্রামের এরকম শিক্ষিত যুবক নেই বললেই চলে। তিনি সে সময় কামারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৪ বছর শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতা করার কারনে তার জীবনে প্রায় ৫০ বছর বয়স অতিক্রম করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিলম্বে বিয়ে করায় তার স্ত্রীর সঙ্গে বয়সের দুরত্ব অনেক বেশী। স্ত্রী নয়ন বালার বয়স এখন প্রায় ৭০ বছর। তার এক ছেলে ও এক কন্যা রয়েছে। কন্যা কনিকা রানী রায়কে চিরিরবন্দর উপজেলা উত্তর পলাশবাড়ী গ্রামে গিরিন বাবুর সাথে বিয়ে দিয়েছেন। কন্যা স্বামী গৃহে শান্তিতেই বসবাস করছেন। কন্যার বিয়ে দিতে গিয়ে তার বসত বাড়ীর কিছু জমি বিক্রি করতে হয়েছে। এখন মাত্র আড়াই শতক জমিতে তার বাড়ী রয়েছে। ওই বাড়ীতেই একমাত্র পুত্র মুকুল চন্দ্র রায় তার ছেলে বিরাম চন্দ্র রায় ও প্রতিবন্ধী এক ছেলেসহ তারা ওই বাড়ীতে বসবাস করে। পুত্রের একমাত্র কন্যা প্রতিমা রায়কে পাশ্ববর্তী পাবর্তীপুুর উপজেলার অলক চন্দ্র রায়ের সাথে বিয়ে দিয়েছে। সে স্বামী গৃহে ভালোই রয়েছেন।
বৃদ্ধ দিবেন্দ্র নাথ রায় এর পুত্র মুকুল চন্দ্র রায় কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই পুত্র সহ কোন রকমে জীবন যাপন করেন। মুকুল চন্দ্র রায়ের পুত্র বিরাম চন্দ্র রায় আইএ পাশ করে অর্থ অভাবে আর পড়াশুনা করতে পারছেন না। এখন বৃদ্ধ দাদার চিকিৎসা ও পরিবারের ভরন পোষনের জন্য একটি চাকুরীর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন। দাদু দিবেন্দ্র নাথ রায়ের আবেদন তার এই বয়সে শেষ ইচ্ছা দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দয়া করে যেনো তার নাতী বিরাম চন্দ্র রায়কে যে কোন একটি সরকারী চাকুরী দিয়ে তার অসহায় পরিবারটিকে সহযোগীতা করেন।