(দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর কাঞ্চন কলোনীতে শিশু সিগ্ধা জন্মের পর মাকে দেখেনি। বাবা থেকেও নেই। বড় হয়েছে নানী আলো বেগম ভারতীর কাছে। এতিম সিগ্ধা পিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনই সময় গত গত ২ নভেম্বর রাত ৮ টায় পার্শ্ববতী থেকে প্রাইভেট পড়ে বাড়িতে আসার সময় প্রতিবেশি সম্পর্কে ‘নানা’ সামিউল সিগ্ধাকে ডেকে বাড়িতে নিয়ে যায়। সিগ্ধার চিৎকারে তার নানী আলো বেগম ও খালা মিনা বেগম সহ চাদনী ছুটে এসে। সিগ্ধা কাঁদতে কাঁদতে তার নানীকে গলা ও ডান হাতের কামড় দেখিয়ে বাক শূণ্য হয়ে পড়ে। নাতনীর এই অবস্থা দেখে আলো বেগম প্রতিবাদ করায় সামিউল সহ তার লোকজন বেগম প্রহার করে। এহেন পরিস্থিতি দেখে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে সিগ্ধার নানী আলো বেগম বাদীনি হয়ে সামিউল সহ ৬জনকে আসামী করে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ (সদর) দিনাজপুর ১টি মামলা দায়ের করে।
মামলার প্রেক্ষিতে কোতয়ালী পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। অতপর তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আলো বেগম সহ তার পরিবারের লোকদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রাখে। এর প্রেক্ষিতে গত ১৩ নভেম্বর আলো বেগম ভারতী সামিউল সহ ৭ জনকে আসামী করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিআরপিসি আদালত দিনাজপুর (কোতয়ালী-ক অঞ্চল) ফৌজদারী মামলা করেন।
এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধিকে আলো বেগম জানায়, সামিউল তার নাতনীর সাথে এ রকম ঘটনা ঘটানোর কারণে সিগ্ধার পড়ালেখা করা তো দূরের কথা সে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ঠিকমত পড়ালেখা করতে না পারায় পিএসপি পরীক্ষায় ভালো ভাবে দিতে পারেনি। বর্তমানে সামিউল সহ তার লোকজনদের সন্ত্রাসমুলক কার্যকলাপের ভয়ে আলো বেগমের পরিবার চরম নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে এবং সুবিচারের আশায় সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।