আব্দুস সালাম, হেড অব নিউজ, (দিনাজপুর ২৪.কম) দাদন ব্যবসায়ী মোসারফ হোসেন (লেদ) একজন কুখ্যাত ব্লাকমেইলরই বটে। নেশার টাকার জন্য চাঁদাবাজী-ব্লাকমেইলিং সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন দিনাজপুর ফুলবাড়ী উপজেলাবাসীদের। মামলার বিবরণে জানা গেছে, নেশার টাকার দাবিতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারী দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার উত্তর কৃষ্ণপুরে মোঃ আশরাফুল আলমের বাড়ীতে আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে মোঃ মোশারফ হোসেন ও মিজানুর রহমান সহ আরও কয়েকজন গিয়ে নেশার টাকার জন্য চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বকৃতি জানালে একই উপজেলার চকশাহাবাজপুর এলাকার বাসিন্দা মামলায় অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন আশরাফুল আলমের বাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করে তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বকৃতি জানালে শার্টের কলার ধরে বাড়ী থেকে বাহিরে নিয়ে আসে। তখন ফুলবাড়ী স্টেশনপাড়ার মৃত আব্দুস সমাদের পূত্র মামলায় অভিযুক্ত মিজানুর রহমান তাকে মারপিট করে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে গলা চেপে ধরে। এ সময় মোশারফ হোসেন আশরাফুল আলমের প্যান্টের পকেট থেকে ১০ হাজার ৫শত টাকা জোর পূর্বক বের করে নেয়। আশরাফুল আলমের চিৎকারে তার স্ত্রী তাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তার শ্লীলতাহানি ঘটায়। সে সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীগন তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকীসহ মাদক, মিথ্যা মামলায় জরিয়ে জেল হাজত খাটাইবে মর্মে ভীতি প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় মোঃ আশরাফুল আলম বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে ৩৮৫/৪৪৮/৩০৭/৩২৩/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬(২)/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ ধারায় একটি মামলা রুজু করেন। মামলা নং-১২/৩৮, তারিখ- ১৬/০২/২০২১। প্রসঙ্গতঃ অত্র মামলার বাদীর ফুলবাড়ী পৌর শহরে নিমতলা মোড়ে একটি ওয়ার্কশপ রয়েছে। সে মটার ও ইলেকট্রিক এর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। গত ২০ ফেব্রুয়ারী তার কাজে ফুলবাড়ী জয়নগর এলাকায় মটরসাইকেল যোগে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত মোশারফ হোসেনও মটরসাইকেল যোগে তার পিছু নেয়। জয়নগর এলাকায় গিয়ে পিছন থেকে চলন্ত অবস্থায় মামলার বাদী আশরাফুল আলমের কাধে অতর্কিত ভাবে লাঠি দারা আঘাত করলে সে মটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে অভিযুক্তরা তাকে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে এবং এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ও মটরসাইকেলে আঘাত করে ভেঙ্গে দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় এলাকাবাসী আশরাফুল আলমকে বিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায়। তার থুতিতে ৪টি সেলাই পড়ে। সে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে মোঃ মোশারফ হোসেন জেল হাজতে রয়েছে। মামলার বাদী জানান, আসামীদ্বয় দীর্ঘদিন থেকে তাকে বিভিন্নভাবে ব্লাকমেইল করে আসছিলেন। তারা প্রায় সময় তার এবং তার স্ত্রীর ছবি বিকৃতি করে ফেসবুকে ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবে মর্মে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন।